ভারতকে অযাচিত মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে বলল ঢাকা


বাংলাদেশের নির্বাচন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সংখ্যালঘু প্রশ্নে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যে মন্তব্য করেছেন, তাকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ আশা করে, ভারত সরকার এ ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, “গত ৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যের বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও সংখ্যালঘু সম্পর্কিত বিষয়সমূহ নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে।
“বাংলাদেশ মনে করে, এ বিষয়সমূহ একান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ ধরনের মন্তব্য অযাচিত ও অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপের শামিল। এই ধরনের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার ভুল প্রতিফলন।”
রফিকুল আলম বলেন, “বাংলাদেশ সকল দেশের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
“সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা আশা করি, ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”
গণআন্দোলনে মুখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসন অবসানের পর থেকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।
এর মধ্যে গত শুক্রবার দিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, তারা একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশকে সমর্থন করবেন, যেখানে অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে সব সমস্যার সমাধান হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, “গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত উগ্রপন্থিরা ছাড়া পাওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হয়েছে।”
ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় উপসনালয়ে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবরও পাওয়া যায়। এ বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে ভারত সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সওয়ালের শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ নিয়েও কথা ওঠে। তিনি বলেন, কোনো পার্থক্য তৈরি না করে সহিংসতা, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

















