ভালো দাম পাওয়ায় খুশি মহেশখালীর পানচাষীরা


চলতি মৌসুমে অন্যান্য সব মৌসুমের তুলনায় এবারে পানের বেশি দাম পাচ্ছেন চাষীরা, তাতেই পান চাষী পরিবারে খুশির বন্যা বইছে, তাদের চাহিদা মেটাতে কোন সমস্যা নাই।মহেশখালীতে উৎপাদিত পানের কদর দিনদিন বাড়ছেই। সেইসঙ্গে বাড়ছে পানের দাম। পানচাষিরা বড় এক ঝুঁড়ি পান বিক্রি করে মূল্য পাচ্ছেন লাখ টাকারও বেশি।
তাই পান চাষে জড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত লোকজনও। মহেশখালীতে উৎপাদিত বড় পান চট্টগ্রাম-ঢাকায় এক বিড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। মিষ্টি পানের দাম মাস দু’য়েক ধরে বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা খুশি। বর্তমানে মহেশখালীতে মাঝারি ও বড় পান প্রতি বিড়া বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায়। আর ছোট পান বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
জানা গেছে, কয়েক যুগ ধরে উপজেলার বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি ঢালু ও আবাদি কৃষিজমিতে পান চাষ করে আসছে স্থানীয় চাষিরা। পাহাড়ি এলাকায় পান চাষ দুই-তিন বছর স্থায়ী হলেও কৃষি জমিতে পান চাষ টিকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাস। তবে কৃষিজমিতে পান চাষ সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে তা মে মাসে শেষ হয়। আর পাহাড়ি এলাকায় পান চাষ যেকোন সময়ে করা যায় বলে জানিয়েছেন পান চাষিরা। পানের বরজ থেকে পান তুলে নিয়ে চাষিরা স্থানীয় হাটবাজারে তা বিক্রি করছেন।
পৌরসভাস্হ গোরকঘাটা, বড় মহেশখালী নতুন বাজার, হোয়ানক ইউনিয়নের টাইম বাজার, পানিরছড়া বাজার, কালারমারছড়া বাজার, জনতাবাজার, ছোট মহেশখালীর লম্বাঘোনা বাজার ও শাপলাপুর বাজারে পানের বড় বাজার বসে। সপ্তাহে দুইদিন এসব পান বাজারে পান বিক্রি হয়। আর পানের ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা পান চাষে এবার বিপ্লব ঘটিয়েছে।
শাপলাপুর পান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পান বেচাঁ-কেনা করতে দুই শতাধিক চাষি পান নিয়ে বাজারে এসেছে। আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পান ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে পান কিনে নিচ্ছে। পরে এসব পান ট্রাক ভর্তি করে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়।
কালারমারছড়া ইজারাদার সমিতির সভাপতি আকতার হোসাইন বলেন, পানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। এ দাম স্থির থাকলে চাষিরা লাভবান হবে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মহেশখালীর পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়ে ও বিলে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। এ পেশায় ৩৯ হাজার চাষির পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ জড়িত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল গাফ্ফার জানান, বিগত সময়ের চেয়ে এখন পানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন চাষিরা। ছোট-বড় মিলে হাটে এক বিড়া পান ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৬শ’ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে পান চাষিদের মনে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।















