উত্তাল ঢেউয়ে ভাঙছে দ্বীপ ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক

ভালো নেই সেন্টমার্টিন

fec-image

বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে এবং স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানির উচ্ছতা বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ভাঙ্গন ধরেছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এভাবে ভাঙ্গন দেখে দ্বীপবাসী এক সময় হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন। বৈরি আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌরুটে গত ৪-৫ দিন ধরে সার্ভিস বোট চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

এছাড়াও ভাঙছে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও শাহপরীরদ্বীপ উপকুল। ফলে আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে দ্বীপবাসী ও উপকূলীয় এলাকার লোকজন।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে গত কয়েক দিন ধরে উত্তাল রয়েছে সাগর। এর মধ্যেই অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারে পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে ১ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত। এতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন অংশে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় ঘর বাড়ি। পানি বাড়ার কারণে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে সেন্ট মার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দাদের।

দ্বীপবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। সাথে প্রচুর বৃষ্টি। বড় বড় ঢেউয়ের তোড়ে চুরমার করে নিয়ে যাচ্ছে বেড়িবাঁধ ও গাছপালা। দ্বীপের চারদিকে যেন হানা দিচ্ছে সাগরের পানি। লোকালয়েও পানি ঢুকে পড়েছে।

বিশেষ করে সেন্টমার্টিনের উত্তরাংশ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে ঢেউয়ের তোড়ে প্রবল ভাঙগনের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গাছ পালা ও স্থাপনা তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে উত্তর পাড়া, গলাচিপা ও পুর্বপাড়া।

২৮ জুলাই এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাগর উত্তাল রয়েছে। বৃষ্টিপাত কমেনি। জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকেের চেয়ে বেশি দেখা গেছে। এদিকে একইভাবে শাহপরীর দ্বীপেও বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয় ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে পড়েছে।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, গত তিন দিন ধরে সাগরে পানির উচ্চতা বেড়ে দ্বীপটির কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে। ঢেউয়ের তোড়ে ভাঙছে গাচপালা ও স্থাপনা। সাগরের এমন করাল গ্রাস দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

তিনি আরো জানান, অনেক স্থানে সৈকতের বালিয়াড়ি ধসে পড়েছে। সীমানা নির্ধারণে দেওয়া প্রাচীর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দ্বীপের চারদিকে যেভাবে ভাঙছে, জিও ব্যাগ বা ব্লক ফেলার ব্যবস্থা করা না হলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপই এক সময় হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপের নুরুল আলম জানান, যখন সাগরে বিলীন হচ্ছে দ্বীপটি তখন পরিবেশবাদীরা কোথায়। সেন্টমার্টিন দ্বীপের এই অবস্থার জন্য পরিবেশবাদীদের দায়ী করছেন তিন। তিনি আরো জানান- শুধু পরিবেশ পরিবেশ করে যাচ্ছে, অথচ দ্বীপ রক্ষার এগিয়ে আসছে না। দ্বীপের জন্য সংশ্লিষ্টদের কোন পরিকল্পনা নেই। তিনি শিগগিরই সেন্টমার্টিন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

এদিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপে ৭ নম্বর, ৮ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩০ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। দ্বীপটির তিন পাশে বঙ্গোপসাগর ও একপাশে নাফ নদী। অতি জোয়ারে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় দ্বীপের ঘোলারচর (ঘোলাপাড়া),পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়া,ডাঙ্গরপাড়া,মিস্ত্রিপাড়া, বাজারপাড়া ও জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে ভূগছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড টেকনাফের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয় ও কৃষিজমিতে লোনা পানি ঢুকে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন