হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছে ইসরায়েল : ভারতীয় সাংবাদিক


ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দেশটি সফর শেষে ভারতীয় সাংবাদিক ব্রজমোহন সিং দাবি করেছেন, চলমান যুদ্ধে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম দ্য কারেন্ট ও প্রেস টিভি-এর প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্রজমোহন সিং বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাইরেন বাজার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। সরকার যেসব বাঙ্কার ও আশ্রয়কেন্দ্রকে নিরাপদ বলে দাবি করেছিল, সেসব জায়গার ভেতরেও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখতে হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, সরকার অনেক তথ্য প্রকাশ করছে না। যেখানে মৃতদেহ রয়েছে, সেই হাসপাতালগুলোতেও সাংবাদিকদের যেতে দেওয়া হয় না। কোনো ঘটনা ঘটলেও অনেক সময় জানা যায় না সেটি ঠিক কোথায় ঘটেছে।
ব্রজমোহন সিংয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ইরানি হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের ছবি বা ভিডিও ধারণ করতেও সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, গণমাধ্যমের কভারেজ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরশিপের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

















