মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান আক্রান্ত ও চীনা বিশ্লেষকের বিশ্লেষণ


ইরানের উপর একটি যুদ্ধ অভিযানের সময় একটি মার্কিন এফ-৩৫ লাইটনিং ২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি আঞ্চলিক মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ১৯ মার্চ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে টাইমস অব ইসলামাবাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তীব্র আকার ধারণ করা চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে, এই ঘটনাটিই প্রথম যেখানে একটি মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের বিমান শত্রুপক্ষের গুলিতে আক্রান্ত হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ইরানের আকাশে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি জেট বিমানকে আঘাত হানার পর তারা বিমানটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে পাইলট নিরাপদে অবতরণ করেছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, তবে সংঘর্ষের সঠিক প্রকৃতি বা এতে ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞরা বিশদ মূল্যায়ন প্রদান করেছেন, যা থেকে বোঝা যায় যে ইরান প্যাসিভ ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সেন্সর সিস্টেমের মাধ্যমে এফ-৩৫ এর রাডার ফাঁকি দেওয়ার স্টিলথ বৈশিষ্ট্যকে অকার্যকর করেছে।
পিপলস লিবারেশন আর্মির অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ইউ গ্যাং ব্যাখ্যা করেছেন যে, এফ-৩৫ তার লো-অবজারভেবল ডিজাইনের কারণে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রাডার শনাক্তকরণে পারদর্শী হলেও, ইনফ্রারেড ট্র্যাকিংয়ের বিরুদ্ধে এর স্টিলথ প্রযুক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল। এই ইনফ্রারেড ট্র্যাকিং উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিন এবং এয়ারফ্রেম থেকে নির্গত তাপ শনাক্ত করে।
ইউ উল্লেখ করেছেন যে জেটটি সম্ভবত আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর মূল কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ ছিল, যার ফলে পাইলট সম্পূর্ণ ধ্বংস না হয়ে ঘাঁটিতে ফিরতে সক্ষম হন।
সামরিক বিশ্লেষক সং ঝংপিং জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল/ইনফ্রারেড সেন্সরগুলো কোনো শনাক্তযোগ্য তরঙ্গ নির্গমন না করে নিষ্ক্রিয়ভাবে কাজ করে, যার ফলে এফ-৩৫-এর সতর্কীকরণ ব্যবস্থাগুলোর পক্ষে আগে থেকে হুমকি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এই নিষ্ক্রিয় শনাক্তকরণ পদ্ধতি উড়োজাহাজকে তার পরিস্থিতিগত সচেতনতা থেকে বঞ্চিত করে, কারণ এটি এমন কোনো তড়িৎচুম্বকীয় সংকেত নির্গত করে না যা পাইলট বা উড়োজাহাজের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমগুলো সহজে প্রতিহত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান রাশিয়ার সরবরাহ করা এস-৩০০-এর মতো অত্যাধুনিক সমন্বিত ব্যবস্থা এড়িয়ে গেছে, যা সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারলে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারত।
এর পরিবর্তে, এই সংঘর্ষে সম্ভবত একটি ইনফ্রারেড-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র জড়িত ছিল, যা সীমিত কিন্তু যথেষ্ট ক্ষতিসাধন করে বিমানটির সম্পূর্ণ ক্ষতি না করেই পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছিল।
বিশ্লেষণে রাশিয়ার আর-২৭টি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি পরিবর্তিত সংস্করণের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা ইরান মূলত ১৯৯০-এর দশকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সংগ্রহ করেছিল।
















