মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ৭ বাংলাদেশি নিহত : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


মধ্যপ্রচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়ার মরদেহ গ্রহণের সময় এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে শাহ আলমের মরদেহ আজ দেশে আনা হয়েছে। তিনি নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধপ্রবণ এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই সরকার সক্রিয় রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর সমন্বয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে। দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
শাহ আলম ভূঁইয়া বৈধভাবে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে তার পরিবারকে সরকার থেকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে বীমা না থাকায় অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকার সুবিধা পাওয়া যাবে না। জাতিসংঘের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে এ সহায়তা প্রদান করা হবে।
এছাড়া তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং ইরান সংকটজনিত বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০০ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহত সাতজনের মধ্যে এটি দেশে আনা পঞ্চম মরদেহ। একজনকে ঘটনাস্থলেই দাফন করা হয়েছে এবং অপর একজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকার জানিয়েছে, শুধু মরদেহ দেশে আনা নয়—বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্বাসনের বিষয়েও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

















