কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮, স্থানীয় ১ সহ ৯ জন নিহত

fec-image

কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণে ভয়াবহ পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও শহর মিলিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে উখিয়ার জামতলী, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়। এর মধ্যে জামতলী ক্যাম্পে একই পরিবারের তিনজন, কুতুপালং ক্যাম্পে এক শিশু এবং বালুখালী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ চারজন প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।

অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় ভোররাতে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে আলী আকবর নামে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ধসে চাপা পড়ে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের লাশ এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে চাপা পড়ে সাত বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন।

সবশেষ রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন এবং একজন আহত হন। নিহতরা হলেন—আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ছোট ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারী বর্ষণ হচ্ছে। আগামী আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন