আয়নাঘরের রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন সোহেল রানা


‘আয়নাঘরকে’ দুনিয়ার নরক আখ্যা দিয়ে বন্দিশালায় নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বেঁচে ফেরা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা। পাঁচ মাস তিন দিন অন্ধকার কুঠুরিতে আটকে তার ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালানো হয় বলে জানান তিনি। জড়িতদের বিচারে গুম কমিশন গঠিত হওয়ায় স্বস্তি জানালেও বিশেষ আইনে দ্রুত বিচার দাবি তার।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন সোহেল রানা। তিনি জানান, ‘২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা থেকে রাত ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে আমাকে তুলে নেয়া হয় সাদা মাইক্রোবাসে। সঙ্গে সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয় চোখ এবং গাড়িতে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজিয়ে শুরু হয় নির্যাতন।
‘এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয় অচেনা এক স্থানে। সেখানকার নির্যাতন হার মানায় সিনেমাকেও। পরে আমাকে নেয়া হয় অন্ধকার ছোট্ট এক কুঠুরিতে। শুরু হয় আলো-বাতাসহীন কবরের মতো ঘরটিতে মধ্যযুগীয় নির্যাতন।’
এ ভুক্তভোগী আরও বলেন, আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চোখ বেঁধে মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়। এরপর স্পর্শকাতর জায়গায় বৈদ্যুতিক শট দেয়া হয়। যন্ত্রণা সহ্য করার মতো ছিল না। আল্লাহর রহমত যে, আমি সহ্য করে প্রাণে বেঁচে আছি।
‘কানে ক্লিপ লাগিয়ে বৈদ্যুতিক শট দেয়া হত। এ সময় মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে আসতো। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর নতুন কাউকে নিয়ে আসতো। একটু পরেই মিউজিক বাজিয়ে দিত। মিউজিক বাজানো মানে নির্যাতন শুরু। চিৎকারে আতঙ্ক বিরাজ করতো’, যোগ করেন সোহেল রানা।
তিনি বলেন, ওই জায়গাটা খুবই ভয়াবহ। আমরা ছিলাম মশাদের খাদ্য। হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থাতেই ঘুমাতে হত। মেরে ফেলা হবে বলে ধরেই নিয়েছিলাম। মেরে ফেলার আগে অন্তত ১০ মিনিট ঘুমাতে দেয়ার অনুরোধ করেছিলাম।
আয়নাঘরে তার মতো অনেক বন্দি ছিলেন বলে ধারণা সোহেল রানার। এ আইনজীবী জানান, অনেক মানুষ মেরে ফেলার আলামত দেখেছেন তিনি। বহুবার ক্রসফায়ারের জন্য নেয়া হলেও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে ফেরেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘চার থেকে পাঁচজন করে নেয়া হত। সেখানে আগে থেকে আরও চার থেকে পাঁচজন থাকত। যে কণ্ঠস্বরটা নিয়ে যেত, সেই কণ্ঠস্বরটা দ্বিতীয়বার কখনও শুনিনি। ওযু করে তওবার নামাজ পড়ার সুযোগ দিয়ে বলতো, আজকে তোমাদের জীবন প্রদীপ শেষ।’
অবশেষে টানা পাঁচ মাস তিনদিন পর ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট মুক্তি অবস্থায় রাজশাহীর এক জঙ্গলে নিজেকে আবিষ্কার করেন আইনজীব সোহেল রানা।
















