ইরান যুদ্ধে প্রতি সেকেন্ডে ১০ হাজার ডলারের বেশি খরচ যুক্তরাষ্ট্রের


ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক ব্যয়ের চিত্র সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ব্যয় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৯০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদ, বিমান হামলা, নৌবাহিনী মোতায়েন এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে।
এর মধ্যে শুধু গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রেই প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যা মোট ব্যয়ের ৩৬ শতাংশ। টমাহক ক্রুজ মিসাইল ও জেডিএএম বোমার মতো নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহারে এই অর্থ খরচ হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ থেকে ২ হাজার ছিল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র।
যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন, বোমাবর্ষণ ও নজরদারিতে প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার। নৌ অভিযানে বিমানবাহী রণতরি ও সাবমেরিন পরিচালনায় খরচ হয়েছে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড ও প্যাট্রিয়ট পরিচালনায় প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার। গোয়েন্দা কার্যক্রম, উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ ও সাইবার অপারেশনে ব্যয় হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ডলার। রসদ ও জনবল খাতে দৈনিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম তিন সপ্তাহেই সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ১ দশমিক ৪ থেকে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ হারিয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে পেন্টাগন অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ বাজেট চেয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ ব্যয়ের ক্রমবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

















