ঘুষ গ্রহণের দায়ে চীনের সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড


দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের দায়ে চীনের সাবেক নগর কর্মকর্তা ইয়াং ইউলিন-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তদন্তে সহযোগিতা, অপরাধ স্বীকার এবং আদালতে অনুশোচনা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি শাস্তি থেকে রেহাই পাননি।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ইয়াং ২২০ কোটিরও বেশি ইউয়ান ঘুষ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রকৌশল প্রকল্পের চুক্তি, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ ও মূল্যবান উপহার গ্রহণ করতেন তিনি। আদালতের ভাষ্য, তার কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনস্বার্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াং ইউলিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অভিযানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ব্যাংকিং খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে ইয়াং অপরাধ স্বীকার করে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেন এবং আদালতে অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তার অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে এসব বিষয় শাস্তি লঘু করার জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হয়নি।
চীনে অর্থনৈতিক অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও বড় অঙ্কের দুর্নীতির মামলায় এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে সাবেক আর্থিক কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিন এবং ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংয়ের বিরুদ্ধেও একই ধরনের রায় কার্যকর করা হয়।
সূত্র: বিবিসি

















