জামায়াত আমীরের স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বির্তকিত বক্তব্য


জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমানের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে সাম্প্রতিক ইতিহাস বিকৃতির বক্তব্যকে ‘আবল-তাবল’ ও ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক ডা.জাহেদ উর রহমান।
জামায়াত আমীর চট্টগ্রামের এক জনসভায় দাবি করে বলেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের মাটি থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং সেই ঘোষক ছিলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বীর বিক্রম।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ইউটিব চ্যানেলের এক ভিডিওতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস সুপ্রতিষ্ঠিত ও নথিভুক্ত। শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, ২৫ মার্চের ঘোষণা এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণার বিষয়টি দেশি-বিদেশি বহু ডকুমেন্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে কর্নেল অলি আহমেদকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে উপস্থাপন করা ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও বলেন,এটা মতের পার্থক্য নয়, ব্যাখ্যার ভিন্নতাও নয়। এটা সরাসরি ইতিহাস বানানোর চেষ্টা। যে দল নৈতিকতা ও ‘সৎ লোকের শাসন’-এর কথা বলে, তাদের শীর্ষ নেতার মুখে এমন মিথ্যাচার শুধু বিস্ময়কর নয়, ভয়ংকরও।
জাহেদ উর রহমানের মতে, জামায়াত আমীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, এলডিপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতেই ইতিহাসকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। এটা এক ধরনের পারস্পরিক পিঠ চুলকানোর রাজনীতি, নৈতিকতার বিনিময়ে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত আমীরের আচরণ ও বক্তব্যে অস্থিরতা ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গি লক্ষ করা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনলাইন ও অফলাইনে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত হাইপ বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ না নেওয়ায় নেতৃত্বে চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে,যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বক্তব্যের মান ও ভাষায়।
জাহেদ উর রহমান বলেন,মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তি। এই ইতিহাস নিয়ে মিথ্যা বলা বা রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃতি ঘটানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,সে কাজ যে দলই করুক না কেন।

















