পেকুয়ায় বোরকা বাহিনীর হামলায় দুই সাংবাদিক আহত- ক্যামেরা ভাংচুর
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় বোরকা বাহিনীর হামলায় দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন। টৈটংয়ের আলোচিত বোরকা বাহিনীর পৃষ্টপোষক ইউপির নারী সদস্যা আয়েশা বেগম সরকারি টাকা লোপাটের সময় ওই দু’সাংবাদিকের হাতে ধরা পড়ে। এ সময় পেকুয়ার কর্মরত ওই সাংবাদিক ছবি তুলতে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টৈটং ইউপির সদস্যা আয়েশা বেগমের নেতৃত্বে তার স্বামী আব্দুল মোনাফ ও ছেলে জোনাইদসহ ৫-৬ জন সন্ত্রাসী পেকুয়া উপকুলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম হিরু ও সহ-সভাপতি সাংবাদিক মো.ফারুককে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
এ সময় তারা দুটি ক্যামেরা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা সিএনজি অটোরিক্সা যোগে সটকে পড়ে।
জানাগেছে, চলমান কর্মসৃজন প্রকল্পে টৈটং ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আয়েশা আক্তার মেম্বারকে দায়িত্বভার দেওয়া হয়। ৪২ জন শ্রমিকের মধ্যে কাজে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক নিয়মিত অনুপস্থিত থেকে থাকে।
বৃহস্পতিবার বিকালে পেকুয়া জনতা ব্যাংকে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হচ্ছিল। তবে অনুপস্থিত শ্রমিকদের উপস্থিত দেখিয়ে বিপুল পরিমান সরকারি টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে উত্তোলন করে। পরে ভুয়া শ্রমিকদের মাধ্যমে উত্তোলিত টাকা পেকুয়া বাজারের লালু সওদাগরের দোকানের গলিতে ইউপি সদস্যের ছেলে বোরকা বাহিনীর সদস্য জোনাইদ হাতিয়ে নেন। এমনকি টাকা আদায় নিয়ে এক শ্রমিকের সাথে বনিবনা না হওয়ায় জুনাইদ শ্রমিককে মারধর করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে দুই সাংবাদিক ওই স্থানে যান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সন্ত্রাসীরা দুজনের উপর চড়াও হন। পরে এক পর্যায়ে আয়েশা বেগম, স্বামী আব্দুল মোনাফ ও ছেলে জুনাইদের নেতৃত্বে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে দু’সাংবাদিককে আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’ সাংবাদিককে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে জানতে মহিলা মেম্বার আয়েশা বেগমের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বক্তব্য নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে পেকুয়া উপকুলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম হিরু ও সহ-সভাপতি সাংবাদিক মো.ফারুক জানিয়েছেন, জুনাইদ একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে বোরকা বাহিনী সক্রিয় সদস্য। তার মা ও বাবা ওই বাহিনীর পৃষ্টপোষক। কাজ না করে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার টাকা লোপাট করে তারা। আমরা বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য সেখানে গেলে তারা হামলা করে। আমরা এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হবো। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।



















