প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে মহিলা সংস্থার রাঙামাটি শাখার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ

fec-image

প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে জাতীয় মহিলা সংস্থার রাঙামাটি শাখার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনের এ প্রতিষ্ঠান তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের আওতায় ফ্যাশন ডিজাইন, বিউটিফিকেশন, ক্যাটারিং,ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস ম্যানেজমেন্টের ২য় ব্যাচের ট্রেডে ভর্তি আবেদনপত্র বাছাই  করে মঙ্গলবার (১ মার্চ ২০২২) প্রশিক্ষণার্থীদের চূড়ান্ত নামের তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকা করার সময় উপজাতি নারীদের প্রাধান্য দিয়ে বাঙালি নারীদের প্রতি বৈষম্যর অভিযোগ তুলে পিসিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সবগুলো ট্রেডে বাছাই করা উপজাতি নারী আর বাঙালি নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা হিসাব করলে দেখা যায়,  বাঙালি নারী ২০% প্রশিক্ষণের জন্য সুযোগ পেয়েছে, অন্যদিকে উপজাতিরা ৮০% সুযোগ পেয়েছে। অথচ বাঙালি ৫০% ও উপজাতিরা ৫০% করে সমানভাবে সুযোগ পাওয়ার কথা ছিলো। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তারা বলে বাঙালি নারীরা আবেদন করে না।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাঙালি নারীরা আবেদন করে না, এটা আসলে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এড়ানোর একটি কৌশল। আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি যে, বাঙালি নারীরা আবেদন করলেও তাদেরকে সেভাবে সুযোগ দেয়া হয় না। লবিং বা সুপারিশ ছাড়া তো কোনো বাঙালি নারী ভর্তি হওয়ারই সুযোগ পায় না। আমরা এমন বৈষম্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগামীতে প্রতিটি ট্রেডে সমানভাবে বাঙালি ও উপজাতি প্রশিক্ষণার্থীদের নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি ছাত্রছাত্রীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। উপজাতীয় শিক্ষার্থীরা ভর্তি ও চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি বৃত্তি পাচ্ছে। কেবল উপজাতীয় হওয়ার সুবাদে পার্বত্য জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন থেকে বৃত্তির মোটা অংকের অর্থ পেয়ে থাকে তারা। এক্ষেত্রে বাঙালি শিক্ষার্থীরা তাদের থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন ও দারিদ্রতার শিকার হয়েও উপেক্ষিত হচ্ছে।‘

পিসিসিপির অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে জানতে জাতীয় মহিলা সংস্থা রাঙামাটি কার্যালয়ের জেলা কর্মকর্তা প্রমেশ চাকমা পার্বত্যনিউজকে বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণের বিষয়টি দেখি না। প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য আলাদা একটি কমিটি রয়েছে। এ কমিটির সভাপতি ফিরোজা বেগম চিনু এবং সদস্য সচিব মানসী ত্রিপুরা। আমি ওই কমিটির একজন সদস্য মাত্র। আপনি চিনু ম্যাডামের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেন।’

সংস্থাটির প্রশিক্ষণ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফিরোজা বেগম চিনু পার্বত্যনিউজকে বলেন, ‘যারা প্রশিক্ষণে সুযোগ পায় না, তারা মূলত সঠিক নিয়মে ফরম পূরণ করতে পারে না। যে কারণে বাছাই পর্বে অনেকে ঝড়ে যায়। আমি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী একজন মানুষ। তাই এ প্রতিষ্ঠানে কোনো বৈষম্য করতে দিতে পারি না। চেষ্টা করি, যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য আবেদন করে তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করার সময় সকল জাতি স্বত্তার সংমিশ্রণে নিয়ে থাকি। যাতে কোন বৈষম্যের সৃষ্টি না হয়।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন