রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় বহু হতাহতের শঙ্কা

fec-image

মিয়ানমারের রাখাইনে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক জান্তা বাহিনী। এতে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সাগাইং অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিজেদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী কোন্দলে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গত চার মাসে প্রায় ৭ লাখ নাগরিক মিয়ানমার ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন থাইল্যান্ডে। খবর সময় টিভি অনলাইনের

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং উপজেলায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। যুদ্ধবিমান থেকে শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে মুহুর্মুহু বোমা ফেলেছে সেনারা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানান বাসিন্দারা।

এদিকে জান্তাবিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রক্তাক্ত হয়েছে সাগাইং অঞ্চলের মোনিওয়া শহর। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকার বা এনইউজির অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স পিডিএফ এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্স পিএসএফ-এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় পিএসএফ ক্যাম্পগুলোতে পিডিএফের আকস্মিক অভিযানের পরই এই সংঘাতের সূত্রপাত।

এমন চতুর্মুখী সহিংসতা ও জান্তা সরকারের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন থেকে বাঁচতে দলে দলে দেশ ছাড়ছেন মিয়ানমারের নাগরিকরা। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমার নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন।

মূলত জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি এড়ানো, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণেই এই ব্যাপক দেশত্যাগ।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংঘাতে এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম প্রাণঘাতী সংঘাত, যেখানে প্রকৃত প্রাণহানি আরও বেশি হতে পারে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতার জেরে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন প্রতি পাঁচজনের একজন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: টেকনাফ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন