রাঙামাটিতে রোহিঙ্গা গণনা শুমারি শুরু
স্টাফ রিপোর্টার:
রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) গণনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা পরিসংখ্যানের উদ্যোগে রাঙামাটির ১০টি উপজেলা, ৫০টি ইউনিয়নে এ রোহিঙ্গা শুমারি কার্যক্রম শুরু হয়।
রাঙামাটি জেলাকে ২৩টি জোনে ভাগ করে ৩৫৫জন গণনাকারী ও ৩৬ সুপারভাইজার এ শুমারি গণনার কাজ করবেন। প্রতিটি জোনে একজন করে জোন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। আর এ শুমারি কার্যক্রম চলবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশের মোট ৬টি জেলায় এ রোহিঙ্গা গণনা শুমারি কার্যক্রম চলছে। যেসব জেলায় রোহিঙ্গা গণনা শুরু হয়েছে সেগুলো হলো, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ও পটুয়াখালী।
এ ব্যাপারে রাঙামাটি পরিসংখ্যানের ২নং জোনের শুমারি সমন্বয়কারী মো. সাইদুল হক জানান, রাঙামাটিতে অবস্থানরত অনিবন্ধিত মিয়ারমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) শুমারি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জেলার ১০টি উপজেলায় ৬দিনের মধ্যে গণনা কার্যক্রম শেষ করা হবে। এ গণনার মাধ্যমে যারা বাংলাদেশের নাগরিক নয় অবৈধভাবে এ দেশে বসবাস করছে, তাদের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেওয়া হবে। এ মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের আওয়তায় আনা হবে। যেসব রোহিঙ্গাদের নিবন্ধিত পরিচয়পত্র থাকবে, তাদের আইওএমের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সেবা, নিজেদের মাতৃভাষায় পড়ালেখার জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা ও আইনী সহায়তাসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। আর বাংলাদেশে অবস্থানরত অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিকরা এসব সুযোগ সুবিধা পাবে না। তারা বাংলাদেশের অবৈধ নাগরিক বলে গণ্য হবে।
রাঙামাটি রোহিঙ্গা গণনাকারী ফারহানা ইয়াছমিন জানান, তিনি শহরের ওয়াবদা কলোনী ও মাস্টার কলোনীতে গণনার কাজ করছেন। তবে অনেকে শিকার করতে নারাজ তারা মিয়ানমারের নাগরিক। আবার অনেক রোহিঙ্গা পরিবার খুশি হয়েছেন। অবশেষে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাদের মৌলিক সহযোগিতা দিবে জেনে।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্যাঞ্চল সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়া অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে অনেক মিয়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা) দীর্ঘ বছর ধরে এ অঞ্চলে বসবাস করছে। কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সঙ্গে তাদের চেহারা বেশ মিল থাকায় অনেকে বুঝতে পরতোনা তারা মিয়ানমারের নাগরিক। তবে কেউ কেউ গোপানে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধ ভোগ করলেও অনেকে নিজেদের আড়াল করে রাখতো। আবার অনেকে লিপ্ত রয়েছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে। এ রোহিঙ্গা নিবন্ধনের ফলে পার্বত্যাঞ্চলে অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















