রামগড় চা বাগানে স্থাপিত নতুন অত্যাধুনিক কারখানায় চা তৈরী শুরু

দৈনিক প্রক্রিয়াজাত করা যাবে ২৪ হাজার কেজি গ্রীণলিফ
25.6

রামগড় প্রতিনিধি:: 

হাতের স্পর্শ ছাড়া অত্যাধুনিক মেশিনে চা তৈরী শুরু করেছে রামগড় চা বাগান। এখন এ অত্যাধুনিক কারখানায় দৈনিক ২৪ হাজার কেজি সবুজ পাতা প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে চা তৈরী করা সম্ভব হবে।

বুধবার চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো: জাহাঙ্গীর আলম কারখানাটির উদ্বোধন করেন। উন্নতমানের চা উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্যে বাংলাদেশের চা জগতে রামগড় চা বাগানটি ইতিমধ্যে সুপরিচিতি লাভ করেছে। ১২ লক্ষ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চা বাগানের কারখানাটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, ভারত ও চীন থেকে আমদানী করা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে কারখানাটির উন্নয়ন করা হয়। এখন কুলিং সিস্টেমে চা তৈরী হবে এ কারখানায়। ৫০ এর দশকে প্রতিষ্ঠিত এ চা বাগানটি অব্যবস্থাপনার কারণে এক সময় রুগ্ন বাগানে পরিণত হয়।

২০০৪ সালে পেড্রোলো লিমিটেড কম্পানি মালিকানা গ্রহণ করার পর গত ১০ বছরে চা বাগানটির আমুল পরিবর্তন আনা হয়। ফলে ২০০৪ সালের উৎপাদনের পরিমান দুই লক্ষ ৮০ হাজার কেজি থেকে এখন প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ কেজিতে উন্নীত হয়। এবছর লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ লক্ষ কেজি সবুজ চা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার কেজি সবুজ পাতা উত্তোলন করা হচ্ছে । প্রায় ১৪০০ একর আয়তনের মধ্যে চা প্লান্টেশন রয়েছে ৭৫৬ একরে। গুণগতমান ও সেরা লিকারের জন্য দেশের অন্যতম সেরা বাগান হিসাবে স্থান করে নিয়েছে চা বাগানটি। এ বাগানের চায়ের সুনাম এবং উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন উন্নয়ন মুখি উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে উৎপাদন অক্ষম বয়স্ক গাছগুলো উঠিয়ে হাই ব্রীড কোলন চা চারা রোপন করা হয়।

চা বাগানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিশালায়তনের প্রাকৃতিক লেকটির সংস্কার ও পুন:খননের কাজ শুরু করা হয়েছে । এ লেকের পানি ব্যবহার করা হচ্ছে পুরো বাগানের সেচ কাজে। ৩৬ হর্স পাওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প এবং জেনারেটর বসিয়ে বাগানে সেচ দেয়া হয় । খরা মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষে বাগানের প্রতিটি লাইনে থাইল্যান্ড থেকে আনা পাইপ স্থাপন করা হয়েছে।

স্থায়ী এসেছে লাইনের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্র স্প্রিংলারের সাহায্যে বৃষ্টির মত পানি ছিটানো হয় বাগানে। স্থায়ী সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা । বাগানের সম্পদ ও শ্রমিক কর্মচারিদের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব সিকিউরিটি ফোর্স রয়েছে। বাগানে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিক কর্মচারিদের জীবন মানের উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোম্পানির নিজ খরচে শ্রমিকদের থাকার ঘর টিনের ছাউনি দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের ধর্মীয় উপাসনার জন্য প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করে একটি বিশালায়তনের পাকা মন্দির নির্মাণ করা হয়। তিনি জানান, বাগানের শ্রমিক কর্মচারিদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র রয়েছে। শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য কোম্পানীর নিজস্ব পরিচালনায় একটি প্রাইমারি স্কুলও রয়েছে। বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েতের সভাপতি অধিক লাল বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বাগানের সার্বিক উন্নয়নে শ্রমিকরা যেভাবে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে, তেমনি কোম্পানীও আমাদের কল্যাণে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।

এদিকে বুধবার বাগানের নতুন কারখানা উদ্বোধনকালে সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও হালদা ভ্যালী চা বাগানের উপদেস্টা মো: নাসির খান ছাড়াও রামগড় চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক আতাহার রহমান,সালাউদ্দিন সিদ্দিকী, রফিকুল ইসলাম,উপসহকারী ব্যবস্থাপক আহম্মদ উল্লাহ, কর্মচারি কল্যাণ সমিতির নেতা মফিজুল ইসলাম বাচ্চু, পঞ্চায়েত সভাপতি অধিক লাল, সেক্রেটারি মিন্টু দেয় ও ভ্যালী সেক্রেটারি যতন কর্মকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কারখানা উন্নয়ন কাজে বিশেষ ভুমিকা রাখার জন্য কর্মচারি ও শ্রমিকদের আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন