সাংবাদিকতায় এআই’র ব্যবহার নিয়ে ডিআরইউতে কর্মশালা

সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার ও দক্ষতা বাড়াতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) চলছে সাত দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। রোববার প্রায় ৫০ জন সংবাদকর্মী এই নিবিড় প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। শনিবার থেকে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।
রোববার সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘এআই পাওয়ার্ড জার্নালিজম : অপরচ্যুনিটিজ, রিস্ক এন্ড ডিজিটাল সিকিউরিটি’ শীর্ষক এই আয়োজন শুরু হয়।
আজকের সেশনে অংশগ্রহণকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় নোটবুক এলএম নিয়ে। রিসার্স, তথ্য বিশ্লেষণ ও দ্রুত কনটেন্ট তৈরিতে এর কার্যকারিতা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
ডকুমেন্ট থেকে ইনসাইট বের করা এবং সারাংশ তৈরি করা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এআই টুলটি সাংবাদিকদের কাজকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে পারে এমন ধারণাও স্পষ্ট হয়েছে।
এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালা চলবে আগামী ৮ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাত দিনে মোট সাতটি ব্যাচে ডিআরইউর সদস্যরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজক গেমপ্লিফাই জানায়, দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে সাংবাদিকতায় এআই-এর মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে বাস্তব প্রয়োগ হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এআই টুল ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ, রিপোর্ট লিখন, সম্পাদনা ও আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরির কৌশল শিখছেন। এ ছাড়া ভুয়া তথ্য, অপতথ্য ও ডিপফেইক শনাক্ত করার পদ্ধতি এবং ফ্যাক্ট-চেকিং টুল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও প্রশিক্ষণের মূল আলোচ্য বিষয়।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ‘বর্তমান সময়ে তথ্যের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুয়া তথ্যের ঝুঁকিও বেড়েছে। এআই সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে সাংবাদিকরা পিছিয়ে পড়বেন। তাই সদস্যদের জন্য এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।’
এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভুয়া তথ্য ও ডিপফেইকের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। আমরা একটি প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই।’
রোববারের প্রথম সেশনে ঢাকাপোস্ট’র হেড অব নিউ মিডিয়া আরিফুল ইসলাম আরমান জেমিনি, চ্যাটজিপিটি ও গুগল এআই স্টুডিওসহ বিভিন্ন টুলের ব্যবহার তুলে ধরেন। দ্বিতীয় সেশনে ডেটা সাংবাদিকতা ও তথ্য বিশ্লেষণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর সহকারী অধ্যাপক মালিহা তাবাসসুম।
দিনের শেষ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এমডি সাইফুল আলম চৌধুরী। তিনি ডিজিটাল রিপোর্টিং, সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরিটেলিং এবং গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহারের মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলার কৌশলগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
ডিআরইউ’র তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, “ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। মূলত সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে ডিআরইউ’র এই আয়োজন। প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ থাকছে। কিভাবে একটি কনটেন্ট অধিক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার সুযোগ থাকছে এখানে। তাই সংবাদ কর্মীরা সমৃদ্ধ হচ্ছেন।আমরা আশা করছি, অংশগ্রহণকারীরা এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজেদের কর্মক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, যুগ্ম-সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম জসিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ উপ-কমিটির সদস্য সচিব আল আমিন আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রশিক্ষকরা বলেন, বর্তমান সময়ে এআই-ভিত্তিক দক্ষতা ছাড়া পেশাগত উন্নতি প্রায় অসম্ভব। তাই যত দ্রুত সম্ভব সাংবাদিকদের এই প্রযুক্তির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে।















