চকরিয়ায় দরিদ্র কৃষকের ৪০ শতক সবজি ক্ষেতে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক দরিদ্র কৃষকের ৪০ শতক রোপন করা সবজি ক্ষেতে দুর্বৃত্তরা তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ক্ষেতের মালিক আবুল হোসেন (৫০)কে হাত-পা বেঁধে মারধর করে ক্ষেতের ফুলকপি ও মরিচ গাছ কেটে  প্রায় দেড় লাখ টাকা ক্ষতিসাধন করে।

শনিবার (১৭ নভেম্বর) ভোররাতে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী নোয়াচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত কৃষক আবুল হোসেন ওই ইউনিয়নের সেকান্দর পাড়া এলাকার মৃত এলাহদাদের ছেলে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকার সবজি চাষ করা ক্ষেতের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সেকান্দর পাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আবুল হোসেন স্থানীয় মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী নোয়াচর এলাকার জমিতে প্রায় ৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে। তিনি চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ওই জমিতে ফুলকপি, মরিচ, ধনিয়াপাতাসহ নানা জাতের ফলন চাষ করে। তার কঠোর পরিশ্রমের ফলে ওই জমিতে ব্যাপক সবজি ফলনও হয়। অন্যদিনের মতো শনিবার রাতেও সবজি ক্ষেত পাহারা দেয় কৃষক আবুল হোসেন। কিন্তু ক্ষেতভরা ফসলি সবজি মাঠে ফুলকপি ও মরিচ ক্ষেতে ওইদিন ভোর রাতে আকস্মিক ভাবে ৮-৯জনের একদল দুর্বৃত্তরা ক্ষেতে এসে তাণ্ডব চালায়।

এ সময় দুর্রৃত্তরা কৃষক আবুল হোসেনকে দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে মারধর করে তার খামারী বাসায় ফেলে রাখেন। ওই সময় তারা ক্ষেতের ফুলকপি ও মরিচ গাছ কেটে নানা সবজি ফলন লুট করে নিয়ে যান। স্থানীয় আশ-পাশের কৃষকরা ভোরবেলা ক্ষেতে গেলে তার কান্নার শব্দ ও চিৎকার শুনে ঘটনাস্থল থেকে হাত-পা বাঁধাবস্থায় সকালে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার এ খবর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার নারী-পুরুষ, শিশু ও কৃষকরা এই নিষ্ঠুরতা দেখতে জমিতে ছুটে যান। পূর্ব বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ সবজি ক্ষেতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আক্রান্ত কৃষক আবুল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সবজি চাষ করেই কোন রকম সংসার চালিয়ে আসছি। শনিবার ভোররাতে পৌরসভার আমান্যাচর এলাকার আকবর আহমদের ছেলে নাজেম উদ্দিন মনু, নাছির উদ্দিন ও তাদের ভাগিনাসহ ৮-৯জনের একদল দুর্বৃত্তরা হঠাৎ ক্ষেতে এসে তাণ্ডব চালায়। এ সময় ক্ষেতে তাদের বাঁধা দিতে গেলে তারা দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে বেদড়ক পিটিয়ে ও মারধর করে আমাকে খামার বাসায় ফেলে রেখে ক্ষেতের ফুলকপি ও মরিচ গাছ কেটে নানা সবজি ফলন তুলে লুট করে নিয়ে যান। এতে আমার প্রায় দেড় লাখ টাকা ক্ষতিসাধন হয়। ঘটনার বিষয়টি চেয়ারম্যান ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। তবে কি কারণে তারা আমার ক্ষেতে এসে এঘটনা করছে তা বোধগম্য হচ্ছেনা। কারো সাথে আমার জায়গা-জমিসহ কোন ধরণের বিরোধ নেই। ঘটনার বিষয়ে তিনি মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক ও এলাকাবাসী জানান, গত এক সপ্তাহের ভেতরে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আওতাধীন মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী নোয়াচর (আমান্যারচর) এলাকায় সবজি ক্ষেতের ব্যাপক সবজি ফলন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ চুরির ঘটনা নিয়ে সাধারণ কৃষকরা চরম দুঃচিন্তা ও ভোগান্তিতে রয়েছে। স্থানীয় নোয়াচর এলাকার কৃষক নবাব মিয়ার বেগুন ক্ষেত থেকে প্রায় ২০মণ ও কৃষক ছৈয়দুল আলম সবজি ক্ষেত থেকে ১০মণের অধিক বেগুন চুরি করে নিয়ে যায়। এ ভাবে চুরির উপদ্রব বেড়ে গেলে ক্ষেতে সবজি চাষ করা দুর্বিসহ হয়ে পড়বে বলে জানান তারা। চাষীরা তদন্তপূর্বক এ দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, প্রায় ৪০ শতক জমির ক্ষেতের সবজি নষ্ট করার ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক। ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে বরাবরে লিখিত অভিযোগ করার জন্য বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল বলেন, ইউনিয়নের আওতাধীন মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী নোয়াচর এলাকায় এক দরিদ্র কৃষকের সবজি ক্ষেতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে সবজি ফলন চুরির ঘটনা ঘটে। এটা খুবই মর্মান্তিক একটি ঘটনা। স্থানীয় কৃষকরা ঘটনার বিষয়ে অবহিত করলে সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + 14 =

আরও পড়ুন