রামগড়ে ঈদের দিনেও বিদ্যুতের নৈরাজ্যকর অবস্থা, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

fec-image

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ঈদের দিনেও সীমাহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিশেষ করে কোরবানির মাংস সংরক্ষণে চরম বিপাকে পড়েছেন মুসলিমরা। ঘরে ঘরে সংকট দেখা দিয়েছে পানীয় জলের। এনিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পিডিবি’র রামগড় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

গত রবিবার(১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় ১৬ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ঈদের দিন(১২ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে। কিন্তু ২-১ মিনিট থেকে আবার চলে যায়। এভাবে বিদ্যুৎ যাওয়া- আসার মধ্যে থাকে ঈদের সারাদিন। সন্ধ্যার পরও একই অবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঈদের দিন দুপুর ২টার দিকে রামগড় উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ আসলেও সোনাইপুলসহ আশেপাশের অনেক এলাকায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। রাতে আসলেও আসা- যাওয়ার মধ্যে থাকে বিদ্যুৎ। রামগড় পৌরসভার ফেনীরকূলের বাসিন্দা ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার মো. রুহুল আমিন, সাংবাদিক আবু তাহের মুহাম্মদসহ ঐ এলাকার অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বড় উৎসব কোরবানি ঈদের দিন বিদ্যুৎ না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা রামগড়ে নজিরবিহীন ঘটনা। এ জন্য তারা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা- কর্মচারিদের অবহেলাকে দুষছেন।

এদিকে, সীমাহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ কোরবানির মাংস সংরক্ষণে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ফলে কোরবানির মাংস নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে আছেন মুসলিম পরিবারগুলো।

জানাযায়, গত কয়েকদিন ধরেই রামগড়ে বিদ্যুতের চরম নৈরাজ্যকর অবস্থা চলছে। সারাদিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার পর রাতে আসলেও একটু পর আবার চলে যাওয়া রুটিনে পরিণত হয়। এর মধ্যে ঈদের দিনও অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং আরও অবনতি হয়েছে।

রামগড় পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহ জাহান কাজী রিপন বলেন, দায়িত্বশীলদের চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণেই বিদ্যুতের এ দুরবস্থা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় উৎসবের দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে ঘরে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করতে না পারায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঈদ উৎসবে আনন্দের পরিবর্তে মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই।

এদিকে, পিডিবির রামগড় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে যোগাযোগ করে কাউকে পাওয়া যায়নি। অফিসের দরজা তালাবদ্ধ রয়েছে। জানাযায়, আবাসিক প্রকৌশলী গত বৃহস্পতিবার (৮আগস্ট) থেকে কর্মস্থলে নেই। জনৈক কর্মচারি বলেন, ‘ ১৬ আগস্ট আর. ই স্যারের মেয়ের বিয়ে। তাই তিনি বৃহস্পতিবার থেকে কুমিল্লার লাকসামের বাড়িতে আছেন।’ খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমানে এ সরবরাহ কেন্দ্রে কোন দাযিত্বশীল কর্মকর্তা বা কর্মচারি উপস্থিত নেই।

জানাযায়, ইলেক্ট্রিশিয়ান ইউসুফ এবং দুই হেলপার আনোয়ার ও কংক ত্রিপুরাই সরবরাহ কেন্দ্রের সবকিছু দেখবাল করছেন।

বিদ্যুতের চরম নৈরাজ্যকর অবস্থার বিষয়ে কথা বলতে আবাসিক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কার্বারীও বিদ্যুতের নৈরাজ্যকর অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এমনিতেই গত কয়েকদিন যাবৎ বিদ্যুতের বেহাল অবস্থা চলছিল। কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের মত একটি অন্যতম ধর্মীয় উৎসবে বিদ্যুৎ না থাকা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, এ নৈরাজ্যকর অবস্থার জন্য বিদ্যুতের আবাসিক প্রকৌশলী কিছুতেই দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বিদ্যুতের নৈরাজ্যকর অবস্থা, ভোগান্তিতে, রামগড়ে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − 12 =

আরও পড়ুন