নাইক্ষ্যংছড়ির লোকালয়ে হাতির আক্রমন

আবাসস্থল ও প্রকৃতিতে খাদ্য সংকটই মূল কারণ

fec-image

জমিতে ফসল ফলালেই বন্য হাতির হানা, খামার ঘর বা কৃষকের বাড়িতে ধান মজুদ করলে সেখানেও ক্ষুধার্ত হাতির দল ছুটে যাচ্ছে। ধান সাবাড়ের পাশাপাশি বসত ঘর গুড়িয়ে দেওয়াসহ প্রাণনাশের ঘটনা এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে এই ধরনের বন্য হাতির আক্রমন। গত এক মাসে এই উপজেলায় তিনজনের প্রাণহানিসহ একাধিক বসতঘরে হানা দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত শতাধিক কৃষকের জমির ধান সাবাড় করেছে আবাসস্থল ও খাদ্য সংকটে থাকা বন্যহাতির পাল।

জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের গয়ালমারাঝিরি, আমতলীমাঠ, ফজুরছড়া, লম্বামাট, চেরারমাঠ, হামিদিয়াপাড়া, ফুলতলী, প্রধানঝিরি, দোছড়ি ইউনিয়নের বাহিরমাঠ, কামিরমুখ, চিকনছড়ি, ছাগলখাইয়া, ডলুঝিরি, গুরুন্নাকাটা ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মারোগ্যপাড়া, বটতলী, হেডম্যানপাড়া, বৈদ্যপাড়া, ঠাকুরপাড়া, চিংথোয়াইপাড়া, নন্নাকাটা, নতুনপাড়া ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাড়ি এলাকায় প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই বন্য হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসে। এসব বন্য হাতি খাদ্যের সন্ধানে মানুষের বসতবাড়ি ও আঙ্গিনা গুড়িয়ে দেয়। পালাতে গিয়ে বা ঘুমন্ত অনেকে হামলার শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। গবেষকদের মতে, হাতির বিচরণভূমিতে মানুষের হানা, প্রকৃতিতে খাদ্য সংকটসহ নানা কারণে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব বাড়ছে। কিন্তু এ আক্রমন থেকে পরিত্রাণের বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। প্রশাসন শুধুমাত্র সহায়তার মধ্যেই এখনো সীমবদ্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে আলাপ ও পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৪-৫ বছর যাবত এখানে কিছুতেই হাতির আক্রমণ রোধ করা যাচ্ছেনা। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। ফলে তাদের জীবন জীবীকা মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা বিজয় মার্মা জানান, বন্য হাতির পাল বিভিন্ন বাগানে আশ্রয় নিয়ে থাকে। এতে মালিকপক্ষ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়। পাশাপাশি বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে হামলা চালানোর কারনে প্রানহানি ঘটছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের আমতলী মাঠ এলাকার কৃষক আবদুল হাকিম জানান, শুধু সাহায্য নয়, খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসা বন্য হাতির কবল থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে বাচতে চান তারা। বর্তমানে এ দাবি উপজেলার প্রায় অন্তত ৩০গ্রামের মানুষের গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যানিং মারমা জানান- তাঁর ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি গ্রামে জমির ফসল রক্ষার পাশাপাশি কৃষকের প্রাণ রক্ষার জন্য হাতির সাথে লড়াই করছে কৃষক। এই জনপ্রতিনিধির মতে, আশপাশে বন্য হাতির বিচরণের জায়গায় স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। যার কারনে হাতির পাল খাদ্য সংকটের জন্য লোকালয়ে নেমে হানা দিচ্ছে।

লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম কায়সার বলেন- বন বিভাগের শত শত একর অধিভুক্ত বনাঞ্চল রয়েছে। এই বনাঞ্চলে কলার বাগান ও বাঁশের বন গড়ে তোলা গেলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া হাতি টিকিয়ে রাখা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, বন্য হাতির আক্রমনে নিহত পরিবারকে বন বিভাগের মাধ্যমে সরকার ১লক্ষ টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের ধরন অনুযায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নূন্যতম ২৫ হাজার টাকা হারে সাহায্য দেওয়া হয়। এছাড়া বন্য হাতির আক্রমনে নিহত পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় বলে জানান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − seventeen =

আরও পড়ুন