আরাকানে রোহিঙ্গা উচ্ছেদের নীলনকশা বাস্তবায়নে গোপন নজরদারি জোরদার করেছে আরাকান আর্মি

fec-image

মিয়ানমারের উত্তর আরাকানের মংডু শহরে অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে একটি গোপন গোয়েন্দা ইউনিট মোতায়েন করেছে আরাকান আর্মি (AA)। এ সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরা সাধারণ মানুষ কিংবা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির ছদ্মবেশে মংডু, বুথিডং ও রাথিডং এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। তারা কোনো ধরনের বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়াই রোহিঙ্গা বসতিগুলোতে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ চালাচ্ছে। অনেক সময় কাউকে দেখতে পেলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়, অথচ আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের উপস্থিতি দেখেও না দেখার ভান করে।

এই গোপন গোয়েন্দা তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হলো অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের ওপর ভয় ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

কারণ, রোহিঙ্গাদের পৈত্রিক ভিটা ও কৃষিজমি দখল করে সেখানে বৌদ্ধ জাতিগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্বাসনের একটি নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে  আরাকান আর্মি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের যেকোনো মূল্যে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এ লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি, জোরপূর্বক নিয়োগ এবং উচ্ছেদের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে আরাকানে অবস্থানরত কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এই আরাকান আর্মির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আরাকান আর্মির এই পরিকল্পিত নিপীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে অবিলম্বে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই গোষ্ঠীর লাগাম টেনে না ধরলে আরাকানে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আরাকান আর্মি, মিয়ানমার, রোহিঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন