আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭৪

fec-image

গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পের বসতিপূর্ণ এলাকায় গণহত্যা চালিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল। শনিবার এ অভিযানে নিহত হয়েছেন ২৭৪ জন, আহত হয়েছেন অন্তত ৭০০ ফিলিস্তিনি। নারী, শিশুসহ এত বেশি সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে হত্যা গত ৯ মাসের যুদ্ধের মধ্যে প্রথম। অভিযানের নামে গণহত্যা চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী উদ্ধার করেছে চার জিম্মিকে।

এদিকে নুসেইরাতে গণহত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছে লাখো মানুষ। নুসেইরাতে গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ। খবর এএফপি ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নুসেইরাতে হামলায় হতাহতদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। হামলার পর স্থানীয় আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে একের পর এক মৃত ও আহতদের নিয়ে আসা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে এত মানুষ হতাহত হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের কারিন হাস্টার বলেছেন, যুদ্ধের ক্ষত, আঘাতের ক্ষত, অঙ্গচ্ছেদ– এসব দেখতে দেখতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা।

নুসেইরাতে গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিভাগের প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস। বিবৃতিতে এই কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলকে এখনই থামাতে হবে। অসহায়-আশ্রয়হীন ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবে না। শরণার্থী শিবিরে নৃশংসতার চিত্রই বলে দিচ্ছে ইসরায়েল প্রতিদিন কীভাবে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, গাজার কোথাও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ স্থান নেই। এখানে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। নুসেইরাতে হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এটিকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে সংস্থাটি।

এদিকে চার জিম্মিকে জীবিত উদ্ধারকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। তাদের একটি ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়। যদিও ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে গত ৯ মাসের যুদ্ধে শনিবারের চারজনসহ মাত্র সাত জিম্মিকে উদ্ধার করতে পেরেছে ইসরায়েল। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দু’জন এবং গত বছরের ৭ অক্টোবর হামলার পরপরই এক ইসরায়েলি জিম্মি মুক্ত হয়েছিল। আর এ পর্যন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ জিম্মির। শনিবারের আক্রমণে বিশেষ বাহিনীর এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। হামাস এ অভিযানকে ইসরায়েলের ব্যর্থতা বলে মনে করছে।

চারজনকে মুক্ত করার পরও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ থামেনি। তেল আবিবে শত শত ইসরায়েলি বিক্ষোভ করেছে যুদ্ধবিরতির দাবিতে।

অন্যদিকে লাখো ফিলিস্তিন সমর্থক হোয়াইট হাউসের চারপাশে জড়ো হয়ে ইসরায়েলকে সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধ ও দ্রুত যুদ্ধবিরতির পদক্ষেপ নিতে বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর পিপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে মানব ঢাল তৈরি করেন। তারা ৩৬ হাজার নিহত ফিলিস্তিনির নাম লেখা দীর্ঘ লাল ব্যানার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনি যুব সংগঠনের মুখপাত্র নাস ইসা বলেন, বাইডেন যদি এই পথ পরিবর্তন না করেন এবং নেতানিয়াহু ও ইসরায়েল সরকারকে গণহত্যার জন্য জবাবদিহিতে বাধ্য না করেন, তাহলে কোনো বিবেকবান মানুষই তাঁকে আগামী নির্বাচনে ভোট দেবে না।

এদিকে বাইডেনের প্রস্তাবসহ নানা তৎপরতার পরও যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে পৌঁছানোর এখনও কোনো অগ্রগতি নেই। এতে প্রস্তাবিত ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলের চার জিম্মিকে মুক্ত করতে পারায় বাকি জিম্মিদের মুক্তি ও পূর্ণ সামরিক বিজয়ে নেতানিয়াহু আরও আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

 

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইসরায়েল, গাঁজা, হামলা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন