আসামি সাজা খাটবেন নিজ বাড়িতেই!

fec-image

আসামিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুস সামাদকে জেলখানায় নয়, নিজ বাড়িতে জেল খাটতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে ১১ শর্ত মানতে হবে। খাগড়াছড়ি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম আদালত) সামিউল আলমের আদালতে এ রায় হয়েছে। আদালতের ব্যতিক্রমী এই আদেশে শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মারধরের অভিযোগে আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৭ ডিসেম্বর আব্দুস সামাদকে বিশেষ শর্তে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম আদালত) সামিউল আলম। সেই আদেশ মতে আসামিকে জেল হাজতে না পাঠিয়ে কারাদণ্ড স্থগিত রেখে সমাজ সেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসারের কাছে প্রি-সেন্টেস রিপোর্ট তলব করেন আদালত।

খাগড়াছড়ি জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার গত ২ জানুয়ারি আসামি সামাদের অপরাধ ‘দি প্রবেশণ অব অপেন্ডারস অ্যাক্ট, ১৯৬০ এর ৪(১)’ ধারা মতে, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে মামলাটি প্রবেশযোগ্য বলে জানান। সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত জানায়, কারাদণ্ডকালীন ছয় মাস ১১ শর্ত মেনে বাড়িতেই থাকবেন সামাদ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহীন হোসেন জানান, মারধরের অভিযোগে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছে। এরপরও আসামিকে জেলে না নিয়ে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম জানান, এই ধরণের রায় খাগড়াছড়ি জেলায় প্রথম। প্রবেশন সংক্রান্ত হাইকোর্টের বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি সার্কুলার নং জে-০১/২০১৯ অনুসারে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, এমন রায় বিরল। ‘বিচারক সামিউল আলম শুধু প্রবেশন সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তিনি জেলখানার অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে বাঁচিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কারাদণ্ড, খাগড়াছড়ি, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =

আরও পড়ুন