উখিয়ায় স্থানীয় শিশুদের জন্য সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় স্কুলের নবযাত্রা 

fec-image

উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকায় স্থানীয় শিশুদের জন্য সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে একটি প্রাকপ্রাথমিক বিদ্যালয়।

বুধবার (২৯জানুয়ারি) সকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার ধরথর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের বরণ করে নেওয়া হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন ২০১৭ সালে বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ এবং এবছর এটি পুনঃনির্মাণ করে।

স্থানীয় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা বশির আহমেদ বলেন, “এই এলাকায় কোনো বিদ্যালয় ছিলো না। ২০১৩ সালে প্রথম সাতজন শিশু নিয়ে গাছের নিচে পাঠদান শুরু করি এবং ২০১৪-তে একটি মাটির ঘর তুলতে পেরেছিলাম। ২০১৭ সালের পরে এবার সেভ দ্য চিলড্রেন পুনরায় এই সুন্দর ঘরটি করে দিয়েছে। এখন শিশুরা আরো আনন্দময় পরিবেশে নিরাপদে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে”। একইসাথে বিদ্যালয়টি যাতে চলমান থাকে সেজন্য তিনি অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

এই এলাকার সবচেয়ে কাছের প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও তিন কিলোমিটার দূরে, ফলে ছোট শিশুদের জন্য সেখানে নিয়মিত যেয়ে পাঠ গ্রহণ করা কঠিন।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুব্রত কুমার ধর বলেন, “এরকম একটি দুর্গম এলাকায় এসে সেভ দ্য চিলড্রেন শিশুশিক্ষা প্রসারে যে ভূমিকা রেখেছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই স্কুলটি যাতে চালিয়ে নেওয়া যায় এবং সেই সাথে এখানে যাতে একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যায় সেই চেষ্টা আমি করবো”। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোক্তার আহমেদ।

এই বিদ্যালয়ে তিন শিফটে ৩০ জন করে মোট ৯০ জন শিশুকে প্রাকপ্রাথমিক শ্রেণীর পাঠদান করা হবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মনিরুল আলম মনির বলেন, “আমরা স্কুলে দৈহিক ও মানসিক শাস্তির বিপক্ষে। আপনারাও বাড়িতে শিশুদের মারধর করবেন না, তাহলে শিশুদের মন অন্যদিকে চলে যাবে। লেখাপড়া ও স্কুলে আসার ব্যাপারে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেই দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে”।

সেভ দ্য চিলড্রেন রোহিঙ্গা রেসপন্সের টিম লিডার, ডেভিড স্কিনার শিশুদের সাথে কিছুসময় কাটান। তিনি বলেন, “তোমরা রোজ স্কুলে আসবে, শিক্ষকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং বাড়ি ফিরে মা-বাবাকে বলবে কি শিখলে। প্রতিদিন আনন্দের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করলে একদিন অনেক বড় হতে পারবে”।

অনুষ্ঠানে শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও হাইজিন কিটও বিতরণ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 4 =

আরও পড়ুন