ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে টাইগাররা : শুরুতেই কাবু ক্যারিবীয়রা

fec-image

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করতে বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে করেছে ২৯৭ রান। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যা সর্বোচ্চ সংগ্রহ! এদিকে ব্যাটিংয়ের শুরুতেই মোস্তাফিজুরের জোড়া আঘতে কাবু ক্যারিবীয়রা। ৬.৩ ওভারে তাদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৩১ রান।

চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামে স্বাগতিকরা। অবশ্য টস জেতা হয়নি এবারও। গত ম্যাচে ক্যারিবীয়রা টস জিতে ব্যাটিং নিলেও আজকে বরং প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে।

মাঠে নেমে বরাবরের মতো ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনে একাত্মতা প্রদর্শন করে দুই দল। যদিও খেলতে নামার পর বাংলাদেশের শুরুটা স্বস্তিদায়ক হয়নি মোটেও। প্রথম ওভারেই জোসেফের কিছুটা সুইং করা বল ভেতরে ঢুকে পড়ায় পরাস্ত হয়েছিলেন লিটন। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন রানের খাতা খোলার আগে।

প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তামিম ইকবাল ও নাজমুল শান্ত মিলে। কিন্তু শান্ত বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। সাকিবের বদলে তিনে নেমে তৃতীয় ম্যাচেও বড় ইনিংস উপহার দিতে পারেননি। দলীয় ৩৮ রানে কাইল মেয়ার্সের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নিয়েছেন। অবশ্য এর আগে রিভিউ নিয়েও কোনও লাভ হয়নি। মেয়ার্সের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটটি ছিল এটি। শান্ত ফিরেছেন ২০ রান করে।

পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের ইনিংসটা শুরুতে এগিয়েছে মূলত সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালের ব্যাটে ভর করে। তামিমের বিদায়ের আগে দুজনে মিলে গড়েছেন ৯৩ রানের জুটি।

অবশ্য জুটি গড়ার শুরুতেই অনন্য এক কীর্তি গড়েন সাকিব আল হাসান। ঘরের মাঠে টেস্ট, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে মিলিয়ে ৬ হাজার রান পূরণ করেছেন। সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঘরের মাঠে তিনশোরও বেশি উইকেট তার। ফলে নির্দিষ্ট দেশ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) ৬ হাজার রান ও ৩০০ উইকেট শিকার করা একমাত্র ক্রিকেটার এখন সাকিবই।

তামিম ৪৯তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলে হাত খোলার চেষ্টা করেছিলেন। তাই তাকে ধরাশায়ী করতে শর্ট বলের কৌশল নিয়েছিলেন আলজারি জোসেফ। তামিম শুরুতে বাউন্ডারি মেরে এর জবাবও দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু ২৭.৬ ওভারে আর শেষ রক্ষা হয়নি। জোসেফের শর্ট বলেই মিড উইকেটে ধরা পড়েন। বাংলাদেশের ইনিংসকে একটা জায়গায় দিয়ে তামিম ফিরেছেন ৬৪ রানে। তার ৮০ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও একটি ছয়।

তামিম ফিরলেও অপর প্রান্তে ছিলেন সাকিব। নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছিলেন না। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরায় ব্যাটে তার ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। যার বড় ঝলকটা দেখা মিললো এই ম্যাচে। মুশফিকের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে ৫৭০ দিন পর ৪৮তম ওয়ানডে ফিফটির দেখা পেয়েছেন। অবশ্য ফিফটির পরই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন সাকিব। ৮১ বলে ৫১ রান করে ফেলা সাকিবকে বোল্ড করেছেন রেইমন রেইফার।

তার পর অবশ্য শেষ দিকে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে বড় ভূমিকা ছিল মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর। যে জুটিতে তুলনামূলক রান এসেছে একটু দ্রুতগতিতে। ৬১ বলে করা ৭২ রানের এই জুটি ভাঙে মুশফিকুর রহিম ৩৯তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে ফিরলে। মুশফিক ৫৫ বলে বিদায় নেন ৬৪ রান করে। তাকে তালুবন্দি করিয়েছেন রেইফার।

এর পর শেষ দিকে আগ্রাসী ভঙ্গিমায় ব্যাট চালিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। ছক্কা মেরে ২২তম ওয়ানডে ফিফটি ‍তুলেছেন। শুধু তাই নয়, শেষ ওভারে ছক্কা মেরেই সংগ্রহটাকে নিয়েছে গেছেন তিনশোর কাছে। ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে তিনি অপরাজিত থেকেছেন ৬৪ রানে। সৌম্য সরকার সাতে নেমে তেমন কিছু করতে পারেননি। বরং রান আউটের শিকার হয়ে বিদায় নেন ৭ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৪৮ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন আলজারি জোসেফ, ৬১ রানে দুটি নিয়েছেন রেইফারও। একটি নিয়েছেন মেয়ার্স।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 10 =

আরও পড়ুন