কক্সবাজারের মেহেরঘোনায় রাতের আধারে কেটে নিচ্ছে পাহাড়, নীরব বনবিভাগ

fec-image

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের মেহেরঘোনা রেঞ্জের অধীন ভাদিতলার ডজনাধিক স্পষ্টে মাসের পর মাস রাতের আঁধারে বনভূমির সুউচ্চ পাহাড় কেটে নিচ্ছে একটি চক্র। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে এবং অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বিগত কয়েকমাস ধরে উক্ত রেঞ্জ ও বন বিটের অধীন হাসিনা পাহাড় ,ভগ্গুইম্মা পাড়া, পশ্চিম ও পূর্ব ভাদিতলার পাহাড়ি বনভূমির ডজনাধিক স্পটে রাতের আঁধার ঘন হতেই শুরু হয় দৈত্যকার স্কেভেটরের সাহায্যে পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। মধ্য রাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত অর্ধশতাধিক অবৈধ ডাম্পার যোগে এসব পাহাড় কাটা মাটি প্রতি ডাম্পার ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে। এই টাকার একটি অংশ বনবিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর নিয়মিত পাচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে মাটি বহনে ব্যবহৃত এসব ডাম্পারের বেপরোয়া চলাচলে পথচারীরা মৃত্যু ঝুঁকিতে এলাকায় চলাফেরা করে। এমনকি রাতভর এসব ডাম্পারের বেপরোয়া চলাচল ও হুইশেলের শব্দে এলাকার শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের ঘুম ভাঙ্গে। এক কথায় পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি জনজীবন হুমকির মুখে রয়েছে।

গণমাধ্যমে লেখালেখি হলে বনবিভাগ লোক দেখানো অভিযানে নামে। তাতে প্রকৃত অপরাধীরা কখনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় না।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবিদরা অবশিষ্ট বনভূমির পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এসব ভূমিখেকোচক্র ও দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে মেহেরঘোনা বিট কর্মকর্তা ফিরোজ কবিরের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। উল্টো পাহাড় যারা কাটছে তাদের পক্ষাবলম্বন করে জানান যে, ‘আগের মতো এখন পাহাড় কাটা হয় না’ ।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইতোপূর্বে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের নামে মামলা দিয়েছেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, পাহাড় কাটা, বনবিভাগ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন