কক্সবাজার সড়কের নিরব কান্না

fec-image

কক্সবাজার পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। সামান্য বৃষ্টির পরই মনে হয় রাস্তাগুলো যেন ধান বোনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। শহরের বাস টার্মিনাল থেকে লালদীঘি পাড় পয়েন্ট থেকে কলাতলি পর্যন্ত রাস্তাটি যেন আর যান চলাচলের উপযোগী নেই।

শহরবাসাী ও পর্যটকরা ক্ষোভের সঙ্গে যা বলল তার সারাংশ হচ্ছে, প্রথম শ্রেণির মর্যাদাধারী কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান সড়কগুলোর নীরব কান্না কেউই শুনছে না। নিরবে-নিভৃতে কাদঁছে শহর ও পৌর এলাকার সড়কগুলো।

সংস্কারের অভাবে সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে পিজের আস্তরণ ও ইটের খোয়া উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারনে প্রতিদিন অসখ্য টমটম, ছোট ছোট গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

খানা-খন্দে ভরা সড়কগুলোতে চলাচল করতে প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তিতে রয়েছেন কক্সবাজার পৌরবাসী। এই ভাঙা সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই জমে যায় জলাবদ্ধতা। বেহাল দশায় ঝাঝরা হয়ে গেছে সড়কের মায়াবী বুক।

দূর্ভাগা মানুষের আকুতি-মিনতি, ফরিয়াদ কোন কিছুই যেন নজরে আসছেনা সংশ্লিষ্টদের। এভাবে কি চলে একটা পর্যটন শহরের অবস্থা ? এর দায় কার তা প্রশ্ন সকলের।

সম্প্রতি সরকারের ঘোষণায় কক্সবাজার জেলা প্রথম শ্রেণীর জেলা হিসেবেও উন্নতি লাভ করেছে। কিন্তু তার সুফল কি পাবে কক্সবাজারবাসী তা প্রশ্ন এখন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। পর্যটন এলাকাসহ শহরের প্রধান সড়ক ও বিভিন উপ-সড়কের বর্তমান অবস্থা এতই খারাপ যে যানবাহন দিয়ে চলাচল দূরের কথা হেঁটে চলাচল করার সাহস হারিয়ে ফেলছে পথচারীরা।

ক্ষত-বিক্ষত রাস্তা যেন এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার অবস্থা দেখে পর্যটকসহ স্থানীয়রা কোমরে হাত দিয়ে দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেলে সিদ্ধান্ত নেয় কোন পাশ দিয়ে হাঁটা যাবে।

কক্সবাজার পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু সড়ক উপ-সড়কের দীর্ঘদিন নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে।

এদিকে যেসব রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়েছে এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যটন এলাকার লাবনী, কলাতলি ও সি-ইন পয়েন্টের মাঝামাঝি হোটেল সি-গালের সামনের পর্যটন এলাকার রাস্তাটি।

প্রতি বছর বর্ষা এলেই রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায় না। সাগরের ন্যায় ঢেউ ওঠে এই রাস্তায়। পাশাপাশি শহরের প্রধান সড়কসহ উপ-সড়কগুলো খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু প্রধান সড়ক কিংবা পর্যটন এলাকা নয় শহরের বৌদ্ধ মন্দির, গোলদীঘিরপাড়, হাসপাতাল সড়ক, বড় বাজার, আইবিপি রোড, ভিআইপি সার্কিট হাউস, বার্মিজ মার্কেট, ফুলবাগ সড়ক, টেকপাড়া, মাছ বাজার, কস্তুরাঘাট, আলীর জাহাল, রুমালিয়ারছড়া, নুনিয়ারছড়া, পাহাড়তলী ও বাহারছড়াসহ বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দ রয়েছে।

শহরের স্বনামধন্য সড়কে ভালো মানুষ চলাচল করলেও এমনিতে রোগী হয়ে যাবে। সড়কজুড়ে অসংখ্য গর্ত। গাড়ি চলে হেলেদুলে। কিছু স্থানে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে হয় যাত্রীদের। এর মধ্যে যদি একটু বৃষ্টি হয় তাহলে তো দুর্ভোগের সীমাই থাকে না। এমন দুরাবস্থা যেন দেখারও কেউ নেই।’ কথাগুলো আক্ষেপের সঙ্গে জানালেন কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীর বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন।

বাসটার্মিনাল থেকে হলিডে মোড় পর্যন্ত একমাত্র সড়কের এ দুরাবস্থা। এই গুরুত্বপূর্ন ব্যস্ততম সড়কের সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। এরমধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। আবার সেখানে আসছে হাজার হাজার পর্যটক। শহরের এই সড়ক দিয়ে যে পর্যটক একবার আসবে সেই পর্যটক আর কখনো কক্সবাজার আসবেনা বলেও ইচ্ছে পোষণ করছে।

বাজারঘাটার ব্যবসায়ী জিয়া, কলেজ ছাত্র নাহিয়ান, নিশান ও নয়ন জানান, সড়কটি নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। যত ভোগান্তি শিক্ষার্থী ও আমজনতার। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে টমটমে সময় যেমন বেশি লাগে তেমনি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হয়।

শহরের বার্মিজ মার্কেটের ব্যবসায়ী বাশার জানান, এই অভিশপ্ত কক্সবাজারে এরকম হলে আর কোনদিন পর্যটক আসবে না। প্রয়োজনে এই টাকায় দেশের বাহিরে যাবে। কি কারন জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, টমটমের এই শহরে ভাঙ্গা-রাস্তায় বউ বাচ্ছাদের নিয়ে এসে চরম হয়রানী আর লজ্জিত হতে হচ্ছে।

এ সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ কক্সবাজার উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘সড়কটি দিয়ে লিংক রোড, বাস টার্মিনাল, আলির জাহাল, ছন খোলা-এসএমপাড়া, খুরুশকুল, পিএমখালীর প্রতিদিন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ উপজেলা শহরে চলাচল করে। অথচ সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক।’

তিনি আরো বলেন, এই ভাঙ্গা সড়ক সংস্কারের জন্য ইতিপূর্বে অনেক লেখালেখি আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।

জানা গেছে, বাস টার্মিনাল থেকে হলিডে মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক বেহাল। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো কিছু কাজ করে গর্ত ভরাট করে পৌরসভা, কউক আর সড়ক বিভাগ। কিন্তু এই সড়কের কাজ করার দায়িত্ব কার সেই প্রশ্ন এখন সবার।

মানুষের একটাই প্রশ্ন রাস্তা কার আর সংস্কার করার কেউ নেই ? আর কতদিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে শহরবাসীকে।

বিভিন্ন যানবাহন মালিক-চালকরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের শহর ও শহরতলীর প্রধান সড়ক ও উপ-সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। এতে করে একপ্রকার সড়কে গাড়ির কান্নায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আর প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগ তো আছেই।

পৌর এলাকার প্রধান সড়কের কিছু কিছু অংশ ঠিক থাকলেও পুরো পৌরসভার অলি-গলি সড়ক উপসড়ক এখন খানাখন্দকে ভরপুর।

সচেতন মহলের দাবি-কক্সবাজার শহর বিশ্বের কাছে একটি পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত। তাই এখানকার সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে তা-নিজেদের লজ্জিত মনে হচ্ছে। কোন কোন সড়ক দিয়ে চলাচল একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শহরের প্রধান সড়ক ও উপ-সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়তই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাসপাতালে আসা রোগী, রোগির স্বজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো জনসাধারণ।

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, পৌরসভা, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সড়ক বিভাগ রশি টানাটানির কারনে এই বেহাল অবস্থা হয়েছে বলে ধারনা করছেন।

বর্তমানে পিজ-খোয়া উঠে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট অসংখ্য গর্ত ও খানা-খন্দক। প্রতিদিন এই সড়কে হেলেদোলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। সড়কে নিত্যদিন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তার বেহাল দশা ও ভোগান্তির যন্ত্রণায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ক্ষোভের অনুভূতির প্রকাশ।
এমনকি কক্সবাজারের সিনিয়র-জুনিয়র অধিকাংশ সাংবাদিক লেখালেখি করছেন।

বলা চলে কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর প্রায়ই সড়ক উপসড়ক খানা-খন্দকে ভরপুর। বিশেষ করে উপজেলা গেইটে, বাস টার্মিনাল, আলির জাহাঁল প্রধান সড়কে, চৌধুরী ভবনের সামনে প্রধান সড়কে, গোল দিঘীর পাড় থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত সড়ক, বিভিন্ন অলি গলিসহ প্রায়ই সড়ক ও উপ-সড়কের ছোট ছোট গর্ত ও খানা খন্দক।

এমনকি কোন কোন জায়গায় একেবারেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে যানজট নিত্য দিনের সঙ্গীতে পরিণত।
জায়গায় শুধু পিজই নয় খোয়াও উঠে গেছে। শুধু যানবাহন নয়, পথচারীদের চলাফেরায়ও অসুবিধা হচ্ছে। প্রায় একই অবস্থা পুরো পৌর শহরজুড়ে। এমনকি পর্যটন স্পট কলাতলীর অলিগলিতে সড়কে অসময়ে জলাবদ্ধতা ও চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে।

আবার সাধারণ মানুষ অভিমত প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর ও মেয়ররা সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের কথায় ছিড়া কখনো ভিজতে দেখা যায়নি।

কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট আকতার উদ্দিন হেলালী জানান, রাস্তা ঘাটের বেহাল অবস্থা দেখে অতটুকু ভালো লাগছেনা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অথচ দেখার কেউ নাই। কাকে কি বলবো।

এমন পরিস্থিতি শুধু কক্সবাজার শহর নই জেলার সবকটি উপজেলার দৃশ্য এরকমই। সড়কের বেহাল দশায় একধরনের মানুষের বোবাকান্না চলছে। এভাবে চলতে থাকলে সমস্ত রাস্তা ভেঙ্গে চলাচল অনুপযোগী হয়ে যাবে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে এই বৃষ্টিতে ছোট ছোট কাজ চলছে। বৃষ্টি কমলে পুরোদমে কাজ চলবে। এরপর বদলে যাবে কক্সবাজার পৌরসভার চেহারা। এখন অনেক ড্রেনের কাজ চলছে। আর সেজন্য পৌরবাসিকে ধৈর্য্য ধরার পাশাপাশি সহযোগিতা করারও অনুরোধ জানান পৌর মেয়র।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, সড়ক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − four =

আরও পড়ুন