কাপ্তাই জনতাব্যাংক অন্য উপজেলায় স্থানান্তরের অভিযোগে ৩হাজার গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা।
কাপ্তাই নতুনবাজার জনতা ব্যাংক শাখা অন্য উপজেলায় স্থানান্তরের অভিযোগে ব্যাংকের তিন হাজার গ্রাহকের মধ্যে চরম ক্ষোভ চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা যায়, কাপ্তাই্ উপজেলার মধ্যে একটি মাত্র জনতা ব্যাংক যা কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকায় ২৯ডিসেম্বর১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ ৪১ বছর যাবত এ ব্যাংক সুনামের সহিত লাভবান প্রতিষ্ঠান হিসাবে অদ্যাবধি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অত্র উপজেলার বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী মিল কারখানা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সেনা, নৌ, বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান রয়েছে। যার বেশির ভাগ লেনদেন উক্ত ব্যাংকে হয়ে থাকে।
গ্রাহকদের অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, যে কাপ্তাই শাখা ব্যবস্থাপক ও চট্রগ্রাম আঞ্চলিক জোন পরিচালক ব্যাংকটি কাপ্তাই্ উপজেলা হতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা লেচুবাগানে স্থানান্তর করে নেওয়া হচেছ। যার দুরত্ব কাপ্তাই হতে ১৭ থেকে ১৯ কিঃমিঃ পযন্ত। গ্রাহকরা যানানযে শাখা ব্যাবস্থাপক কাউকে কিছু না জানিয়ে অন্য উপজেলায় এটিকে চুপে চুপে নেওয়া হচেছ।
এ সংবাদ সকল গ্রাহকদের মধ্যে জানাজানি হলে গ্রাহকেদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন দীর্ঘ এত বছর যাবত এ ব্যাংকে কোন আর্থিক ক্ষতি হয়নি আর এখন এ ব্যাংকে ক্ষতি হছেচ যা ঢাহা মিথ্যা এবং গুজব বলে মন্তব্য করা হয়। জয়নাল নামের একজন বিদ্যুৎ বিল গ্রাহক বলেন একশত/ দুশত টাকা করে প্রতিমাসে এ ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল জমা দিয়ে থাকি।
আর জদি ব্যাংক রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চলে যায় তাহলে বিদ্যুৎ বিল পরিশোদ করতে আমার পরিবহন খরচ হছেচ ৬০টাকা এবং সময় লাগবে ৩/৪ঘন্টা যা একেবারেই মেনে নেওযার মত নয়। এছাড়া এ উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্টানের বেতন/ভাতা ,বয়স্কভাতা,বৃদ্ধভাতা,উপভিত্তি টাকাসহ স্কুল, কলেজ, মাদরাসার এবং প্রতিষ্টানের বেতন প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা এ ব্যাংকে কার্যক্রম হয়ে থাকে।
গ্রাহকরা জানান যে, কাপ্তাই হতে ব্যাংক অন্য উপজেলা স্থানান্তর হবে শুনে অনেকেই নিজ,নিজ, হিসাব বা ব্যাংকে জমা টাকা তুলে ফেলছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁরা জানানযে অন্য উপজেলা গিয়ে আমার সময় এবং অর্থ লসকরে এ ব্যাংকে হিসাব রাখতে চাইনা। এদিকে ব্যাংক চলে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি কার্যক্রম চিঠির মাধ্যমে চালাচালি শাখা ব্যাবস্থাপকের মাধ্যমে হলেও শাখা ব্যাস্থাপক এটি মিথ্যাবলে চালিয়ে দিচেছ। কাপ্তাই গ্রাহকরা এ ব্যাংকটি থাকার জন্য বা অন্য উপজেলায় না নেওয়ার জন্য ব্যাংক পরিচালকের বরাবরে ইতিমধ্যে বেশ কিছু চিঠি দিয়েছেন বলে জানাযায়। কাপ্তাই বন শিল্প উন্নয় কর্পোরেশন এলপিসি শাখা ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোস্তাক আহমেদ প্রতিনিধিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন ব্যাংক শাখাটি অন্য উপজেলায় স্থানান্তার হওয়ার কথা শুনে আমাদের বন সচিব এবং ঢাকা জনতাব্যাংক পরিচালককে এটি যথাস্থানে রাখার জন্য আবেদন করছি। এ ব্যাংকে কোন ক্ষতি তো আমরা দেখছি না এবারও চলতি অর্থ বছরে আমরা ৫/৬কোটি টাকার লেনদেন করছি। এছাড়া প্রতিমাসে তো কোটি টাকা লেনদেন হচেছ। আর যদি এ ব্যাংক অন্য উপজেলায় চলে যায় তাহলে আমরা সব কিছু ক্লোজ করে নিয়ে আসবো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন এ ব্যাংক অন্য উপজেলার নেওয়া হলে দুর্গম পাহাড়ী এলাকার অসহায় দুস্থ,গরীব বয়স্কভাতা ও বৃদ্বভাতার লোকজন বির্ষণ কষ্ট পাবে। যা সকলের জন্য এবং ব্যাংকের জন্য ক্ষতি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কাপ্তাই নতুনবাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক হাজী কবির আহমদ বলেন দীর্র্ঘ বছরযাবত এ ব্যাংক সুনামের সহিত কার্যক্রম ও সেবা দিয়ে আসছে প্রতি মাসে আমরা এ ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ডিপজিট করা বাবদ কোটি টাকার লেনদেন করে আসছি। হঠ্যাৎ করে এটি এ ভাবে চলে যেতে পাড়েনা এলাকার জন্যএটি থাকা প্রয়োজন বলে তিন উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন আমরা বাজারের পক্ষ হতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট এটি পূর্ণবহলের জন্য গনস্বাক্ষর দিয়েছি। বিএফ আই,ডি সি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউসুফ বলেন,শিক্ষার্থীদের উপবিত্তির টাকার জন্য ১৯কিঃমিঃ দুরত্ব গিয়ে কষ্ট সাধ্য করে বহু টাক খরচ করে টাকা আনা এটি চরম সিদ্বান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস,এম নজরুল ইসলাম বলেন আমি গ্রাহকদের এবং ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগে শাখা ব্যাংবস্থাপকে মোবাইলে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি মিথ্যা কথা ব্যাংক জাবেনা।
তিনি বলেন জদি এটি যায় তাহলে সকলকে পুর্ব থেকে নৌটিশের মাধ্যমে জানানো প্রযোজন। হঠ্যাৎ করে চলে গেলে হয়তো বিভিন্ন সময় পড়তে হতে পাড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে কাপ্তাই জনতাব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল মন্নান প্রতিনিধিকে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন চট্রগ্রাম আঞ্চলিক ডিজিএম কামরুল হাসান দীর্ঘ ৬মাস যাবত চেষ্টা করছেন এ ব্যাংকটি অন্য উপজেলায় আথ্যাৎ রাঙ্গুনিয়া লেচুবাগানে নেওয়ার জন॥ কারণ ১৬টি ব্যাংকের মধ্যে কাপ্তাই শাখা ব্যাংকটি বছরে ২/৪ লাখ টাক করে ক্ষতি হচেছ। এবং ডিপজিট হচেছনা। তিনি আরো বলেন কাপ্তাইয়ে মানুষের তুলনায় ব্যাংক বেশি ।
অন্য উপজেলায় নেওয়া হলে ওখানে বিদেশি লোকজন আছে লাভ বেশি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আর আমরা যখন যাব বিদ্যুৎতের বিলের ব্যবস্থা করে যাব। গ্রাহকদের সাময়িকতো কিছু ক্ষতিতো হবে। হলেও করার কিছু নেই ওপারের নির্দেশ তো পালন করতে হবে।



















