কিছু উন্নয়নে বদলে যেতে পারে বান্দরবানের পাইন্দু ইউনিয়ন

fec-image

মানুষের চাহিদা থাকতে পারে কিন্তু তারপরও আরমাত্র কয়েকটি সড়ক, দুটি স্কুল, কিছু সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে বান্দরবানের দূর্গম রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়ন। বিগত ১১ বছরে ব্যাপক উন্নয়নে বদলে গেছে ইউনিয়নটি। যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষার পাশাপাশি ডিজিটালাইস করনে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে এখানে। সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লা মং মার্মা এমনটি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে ইউনিয়নে ৪, ৫, ৭ ও ৯নং ওয়ার্ড মেম্বারদের সাথে কথা হলে তারা পার্বত্যনিউজকে বলেন, পার্বত্যমন্ত্রীর আন্তরিকতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গত অর্থ বছরে তাদের নিজ নিজ ওয়ার্ড সৌর বিদ্যুতে আলোকিত হয়েছে। ওয়ার্ডের প্রত্যেক পরিবারকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে।

৪নং ওয়ার্ড মেম্বার মংথুই মার্মা, ৭নং ওয়ার্ডের লাল বেন বম ও ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার চিংসানু মার্মা জানান- আগামীতে সৌরবিদ্যুত বরাদ্দ বাড়ানো হলে তাদের মতো পুরো ইউনিয়নের মানুষ আলোকিত হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, ইউনিয়নের চাইরাগ্রপাড়া থেকে সাংগ্যংপাড়া, প্রাংসাপাড়া থেকে ক্যতাইপাড়া, মংপ্রুপাড়া থেকে সানাক্র পাড়া, রোয়াংছড়ি প্রধান সড়ক থেকে ১নং ওয়ার্ডের তংমকপাড়া রাস্তার উন্নয়ন খুবই জরুরী। এই সড়কগুলোর পাশাপাশি নিয়াক্ষ্যংপাড়ায় অসমাপ্ত প্রায় ৩কি.মি সড়ক সম্পন্ন হলে পুরো ইউনিয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা শতভাগ সম্পন্ন হবে। এতে করে এই সড়কগুলোর আশপাশের এলাকার শত শত পাহাড়ি-বাঙ্গালী পরিবার তাদের উৎপাদিত কৃষিপন্য সহজেই বাজারজাত করতে পারবে। খুলবে মানুষের ভাগ্যের চাকা।

জানা গেছে, পাইন্দু ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার জনসাধারণের মধ্যে শিশুদের জন্য ১১টি প্রাইমারী স্কুল থাকলেও নেই কোন জুনিয়র হাই স্কুল বা উচ্চ বিদ্যালয়। এতে করে পঞ্চম শ্রেণী শেষ করার পর অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। বাকী যারা টিকে থাকে তাদের উপজেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই একমাত্র ভরসা। এই কারনে পাইন্দু হেডম্যানপাড়ায় একটি আবাসিক স্কুল ও বম সম্প্রদায় ও মার্মা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র হাইস্কুল নির্মীত হলে পাইন্দু ইউনিয়নের অবহেলিত শিক্ষার আমূল পরিবর্তণ ঘটবে।

এই প্রসঙ্গে পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লা মং মার্মা বলেন- গত অর্থ বছরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ উন্নয়নসহ টিআর-কাবিখার মাধ্যমে পাইন্দু ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ইউনিয়নে ১৩শ পরিবারের মধ্যে গেল ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৬০০ পরিবারের মাঝে সৌরবিদ্যুত বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও টিআর-কাবিকা প্রকল্প থেকেও প্রায় ২৫০ পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৩০ওয়াট সৌর বিদ্যুৎ।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে পার্বত্যমন্ত্রী কাজ করেছেন। আগামীতেও এই দুটি খাতে অসমাপ্ত উন্নয়নে পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সহায়তা চান তিনি।

তরুণ এই চেয়ারম্যান আরও বলেন- আমি চেষ্টা করবো সকলকে নিয়ে পাইন্দু ইউনিয়নে শান্তিতে বসবাস স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা পার্বত্যমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে যা যা করা দরকার আমি তাই করবো।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + 9 =

আরও পড়ুন