খাগড়াছড়ির বিমল ত্রিপুরার মৃত্যুর অন্তরালের ঘটনা

fec-image

খাগড়াছড়ি সদরস্থ কমলছড়ি ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের মারামারির ঘটনায় আহত বিমল ত্রিপুরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বিমল ত্রিপুরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরির লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো এই অপপ্রচারের বিপরীতে ঘটনার প্রকৃত সত্য এবং আইনি নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি মূলত দীর্ঘদিনের একটি ভূমি মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ।
অনুসন্ধানে জানা যায়,, কমলছড়ি ইউনিয়নের খালপাড় এলাকার বিরোধপূর্ণ জমিটি বিগত ১৯৮২ সাল থেকে বাঙ্গালী আবুল বাশির ভোগ করে আসছেন। সেখানে তিনি আম বাগান এবং সবজি চাষাবাদ করে আসছেন। ২০০৭ সাল থেকে তার শাশুড়ি নুর বানুর নামে জমির কাগজপত্র করে নেন। ২০২৪ সালে উক্ত জায়গা পরিস্কার করে আম চারা লাগালে বিপক্ষ গ্রুপ থৈলাঅং চৌধুরী খাগড়াছড়ি কোর্টে মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বাঙালীরা পাল্টা মামলা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় উপজাতি থৈলাঅং চৌধুরী কর্তৃক জমিটি অবৈধভাবে দখল করতে চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। আহত উপজাতি থৈলাঅং চৌধুরী নিজেদের জমি দাবি করে বিরোধপূর্ণ আম বাগানের ময়লা পরিস্কার করে আগুন দিলে বাঙালি আবুল বাশির এর সাথে তর্কাতর্কি সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারামারি সংঘটিত হয়।

মারামারির ঘটনায় ৩ জন পাহাড়ি ও ১ জন বাঙ্গালী আহত হয়। আহতদের খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত পাহাড়ি বিমল ত্রিপুরা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিলো। চিকিৎসাধীন বিমল ত্রিপুরা ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

পুলিশ ও থানা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় বাঙ্গালীরা ৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন পাহাড়িকে আসামী করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। পাহাড়ি ৩জন অভিযুক্ত অগ্রীম জামিন নিয়েছে এবং ২ জন পলাতক রয়েছে। অন্যদিকে পাহাড়িরা ৮ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে আসামী করে মামলা দায়ের করে। ইতোমধ্য পুলিশ ২ জন বাঙ্গালিকে আটক করেছে তারা বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে রয়েছে। ১ জন আসামী চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং বাকি ৫ জন পলাতক রয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাত হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ কামরুল ইসলাম এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ একটি জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ। বিমল ত্রিপুরার মৃত্যু অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত, তবে এই ঘটনাকে পুঁজি করে ইউপিডিএফ (প্রসীত) বা অন্য কোনো কুচক্রী মহল যাতে ‘পাহাড়ি-বাঙালি’ ইস্যু তৈরি করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা অপপ্রচার চালাতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে পাহাড়ি ও বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মহালছড়ি জোনের (৬১ ইবি) ভুয়াছড়ি আর্মি ক্যাম্প, খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ এবং কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক ১৫ জানুয়ারি বিষয়টি মিমাংসা করা হয় যে আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত বর্ণিত জমিতে কেউ চাষাবাদ করতে পারবে না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন