খাগড়াছড়ির গচ্ছাবিলে চাঁদার টাকা না পেয়ে সবজি ক্ষেত নষ্ট করেছে দুষ্কৃতকারীরা

19.03

সিনিয়র রিপোর্টার:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার গচ্ছাবিলে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ৫ একর জায়গায় রোপণ করা শিমলা আলু ও কাকরল ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। গচ্ছাবিলের বকড়ীপাড়া এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় জমি ও সবজি ক্ষেত মালিকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গ্রুপ। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ার কারণেই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি গচ্ছাবিলের বকড়ীপাড়াস্থ ঘটনাস্থ পরিদর্শন করেছি। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বকড়ীপাড়ায় সেনা ক্যাম্প থাকার কারনে দিনের বেলায় সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হতে না পারলেও রাতের আঁধারে স্থানীয়দের সবজি ক্ষেত ধ্বংস করে গাঁ ঢাকা দিয়ে আছে বলে জানান স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক মঈনুল হক বলেন, ১৯৯৭ সালে অলিয়া চাকমা ও তুইত্তা মোহনের কাজ থেকে তয় শ্রেণির এ জমি ক্রয় করে ভোগ-দখলে থেকে আবাদ করে আসছি। গত কিছু দিন থেকে সবজি সৃজনের পর কানি প্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে সন্ত্রাসীরা। দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ করতে না পারায় এভাবে রাতের আঁধারে নির্বিচারে শিমলা আলু (ঠেংগা আলু) ও কাকরল ক্ষেত্র নষ্ট করে দেয় দুষ্কৃতকারীরা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় বরুন চাকমা, বিজয় চাকমা, চন্দ্র সেন চাকমা, কেরাঞ্জন চাকমা ও অংসা মারমা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাদাবি আসছিল। বরুন চাকমা ও বিজয় চাকমা আঞ্চলিক একটি সংগঠনের নামে গত ১৫ মার্চ বুধবার ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একাধিকবার মোবাইলে দাবিকৃত চাঁদার টাকার জন্য হুমকি ধমকি দেয়। টাকা না দিয়ে এ জায়গা কোন সবজি আবাদ করা হলে তা উপরে ফেলার ও হুমকি দেয় বলে সূত্র জানায়। চাঁদা না দেয়ার কারণেই শুক্রবার গভীর রাতেই এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মালিক মো. মঈনুল হক ও মিজান মোল্লা এ ঘটনায় জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =

আরও পড়ুন