গর্জনিয়া বাজার-তুলাতলী সড়কের সংস্কার কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা

fec-image

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগের প্রধান সড়কের রামু গর্জনিয়া- তুলাতলী পর্যন্ত ২ কিলোমিটার অংশের সাড়ে ৪ কোটি টাকার কাজটি আদৌ কী হবে কিনা তা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এক বছর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি উন্নয়নের ৭৫ ভাগ কাজ শেষ করে ঠিকাদার উধাও হয়ে গেছে বলে জানা যায়। সংস্কার কাজের দীর্ঘসূত্রিতায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত দেখা দিয়েছে। যার ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

সড়কটির এই বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সীমান্তরক্ষী বিজিবি, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তাসহ প্রায় ২ লাখ মানুষ। জায়গায় জায়গায় খানাখন্দের ফলে সড়কে চলাচলকারী গাড়ি অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন তথ্য সংগ্রহে জানা যায়, সড়কটি কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা রামু গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নসহ নাইক্ষ্যংছড়ির ৩ ইউনিয়নের প্রধান চলাচল সড়ক। এ বিশেষ সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান, সীমান্তে গোলাগুলির সময় এপারের সীমান্তরক্ষীদের সতর্কবস্থায় থাকা ও চোরাকারবারী প্রতিরোধের জন্যে যেতে এ সড়কটি ব্যবহার করা হয়। অথচ আজ সবই উল্টো। এ জন্য চোরাকারবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

রামু এলজিইডি অফিস সুত্র জানান, সড়কটির পুরো অংশের দুরত্ব ১৪ কিলোমিটার। তবে গর্জনিয়া বাজার-তুলাতলী অংশটি মাত্র ২ কিলোমিটারের সামান্য বেশী। এটি দীর্ঘ দিন অকেজো হয়ে পড়ায় বিগত ২ বছর আগে এটির সংস্কার কাজ শুরু করে আসাদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্টান। যাতে সাড়ে ৪ কোটি টাকা সরকার বরাদ্দ দেয় সরকার। তবে এ সময় কাজও করা হয় প্রায় ৭৫ ভাগ।

স্থানীয় মহিলা মেম্বার ইয়াছমিন আক্তার মুন্নী এ প্রতিবেদককে বলেন, কাজ যে ফেলে গেলেন এক/দেড় বছর আর দেখা নেই ঠিকাদারের। সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী ও শিশুরা। অসংখ্য গর্ভবতী নারী রাস্তায় প্রসব করে রেকর্ট সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক গর্ভবতী নারীর অভিভাবক এ সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তাদেরকে অতিরিক্ত ৫০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ককসবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নিয়া যান বাইশারী-ইদগড়-ঈদগড় দিয়ে।

এ বিষয়ে জানতে গেলে সড়কের ঠিকাদার আসাদুল্লাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, বিগত দিনে সরকারের কয়েকটি দায়িত্বশীল সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়ের করায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া তার ব্যক্তিগত অন্য আরো কয়েকটি সমস্যাও ছিল। এখন তা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। খুব শীঘ্রই তিনি সড়কের এ অংশের কাজ শুরু করবেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) মুহাম্মদ সায়েদুজ্জামান বলেন,নানা অজুহাত ঠিকাদার আসাদুল্লাহ কাজটি শেষ করেননি। দু একদিনের মধ্যে
কাজ শুরু করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেবেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নাইক্ষ্যংছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন