চকরিয়ায় আগুনে পুড়িয়ে দেয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিক্ষোভ: ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী জেগে উঠা চরের জমি দখলে নিতে রাতের আঁধারে সেহরির পরে একটি গ্রামের ২৬টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয় একদল ভূমিদস্যু চক্র। এতে আগুনে পুড়ে মনোয়ারা বেগম নামের এক গৃহবধূ অঙ্গার হয়ে যায়। এ ঘটনায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকার বাসিন্দা ও অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া বাড়ির মালিক জমির উদ্দিন বাদী হয়ে ১৫ মে রাতে এ মামলাটি দায়ের করেন।

নদীর চর এলাকার প্রায় চার একর খাস জমি জবর দখলে নিতে ভূমিদস্যুরা এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটায়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও তাদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন।

এদিকে ২৬টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয়া ও বাড়িঘর লুটপাটের ঘটনা পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত সরকারিভাবে সামান্য চাল ও কয়েকবান টিন ছাড়া আর কোন কিছুই কপালে জুঠেনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের। ফলে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের কয়েকশত নারী-পুরুষ ও শিশু বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। গত ১৪ মে’র ঘটনায় জীবনের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে ডাঙ্গারচর এলাকার ২৬টি পরিবারের। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি চাল ও দুই বান ডেউটিন বরাদ্দ দেয়া হলেও অনেকেই তা পায়নি। আবার এসব সহায়তা বাড়ি নির্মানের জন্য পর্যাপ্ত না হওয়ায় নগদ টাকার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বাড়ি নির্মাণ করতে না পেরে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন বলেন, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার পর দূবৃত্তরা সবকিছু লুট করে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এসব পরিবারের লোকজন খেয়ে না খেয়ে রমজানের দিন অতিবাহিত করছে। আবার অনেকের ঘরে চাল না থাকায় তারা রোজার সেহেরী পর্যন্ত খেতে পারছেনা। যারা কষ্ট করে রোজা রাখছেন তারা সন্ধ্যায় ইফতারীর সময় পানি পান করে ইফতার সারছেন।

দুর্বৃত্তদের আগুনে সর্বস্ব খোয়ানো বাড়ির মালিক কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকার নুরুল হোসাইনের ছেলে কৃষক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, গত ১৪ মে ভোর রাতে সেহেরীর পরপরই দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ২৬টি বসত ঘর পুড়ে যাওয়া এবং আগুনে পুড়ে এক নারী নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও প্রশাসনিক চাপের মুখে ঘটনার মূল আসামীদের বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে এসব দুর্বৃত্তদের হুমকীর মুখে এখনো নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন ২৬টি পরিবারের লোকজন।

আগুনে সর্বস্ব খোয়ানো বাড়ির মালিক জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ৭ মে দুর্বৃত্তরা ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে নদীর পার্শ্ববর্তী জেগে উ্ঠা চর দখলের চেষ্টা চলায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ওসমানের পিতা নুরুল হোসাইন বাদী হয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও পুলিশ এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করায় দুর্বৃত্তরা পুনরায় এ ধরণের বর্বর কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস পায়। ফলে এ ঘটনার জন্য প্রশাসন কখনো তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × two =

আরও পড়ুন