জামায়াত নেতার পক্ষে কাজ করায় নৌকার পরাজয়ের অভিযোগ

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চতুর্থ দফায় অনুষ্ঠিত হওয়া বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের কৌশলগত কারণে নৌকার প্রার্থী এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়াকে পরাজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে নৌকার প্রার্থী জিয়াউদ্দিন চৌধুরী মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি ১৯৭৩ সনে পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশনে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর মাঠে-ময়দানে আমরা মিছিল করতে গিয়ে কত জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। পরে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদে অধিষ্ঠিত হয়েছি। দীর্ঘ এই ৪৮ বছর আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি জাসদ, বাসদ ও বিএনপির থেকে আসিনি। আমার পরিবারে সবাই আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। গত দুই বার জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি।

তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন, চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে আমার নাম পর্যন্ত যায়নি। তবে জেলা আওয়ামী লীগ আমার নাম ১ নম্বরে পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের রিপোর্ট ভাল পেয়ে আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এই নৌকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, এই নৌকা আওয়ামী লীগের। কিন্তু চকরিয়া উপজেলা ও বরইতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী নৌকাকে হারাতে কলকাঠি নেড়েছেন। কিছু আওয়ামী লীগ লোক দেখানো আমার মিটিং-মিছিলে এসেছেন। কিন্তু তলেতলে তারাও নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছেন।

এদিকে কিছু নীতিহীন নেতা জামায়াত নেতা (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মো. ছালেকুজ্জামানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। উনাকে জিতিয়েও দিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম দৈবক্রমে একবার আমার নির্বাচনী মিটিংয়ে এসে নৌকার পক্ষে বললেও শেষে একটি হিন্দি গানের প্রথম লাইন বলে ভোটারদের নৌকার বিরুদ্ধে বুঝিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আগে নৌকার পক্ষে কাজ করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে। জেলার একজন সিনিয়র নেতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী জামায়াত নেতা ছালেকুজ্জামানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নৌকাকে হারিয়েছেন।

আামি নৌকা নিয়ে কেন হারলাম বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চাই। দলীয় পদ নিয়ে যারা দলের ভিতরে অন্তঃকোন্দল তৈরি করে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন তাদের মুখোশ উন্মোচিত হউক এটাই আমার প্রত্যাশা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × four =

আরও পড়ুন