তিন পার্বত্য জেলায় জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরামর্শ দিলেন পার্বত্যমন্ত্রী

fec-image

জাতীয়করণকৃত তিন পার্বত্য জেলার ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নামের খসড়া তালিকা প্রকাশ করায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বরাবর শুভেচ্ছা পত্র পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলীকদম উপজেলা পরিষদ এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পার্বত্য মন্ত্রী এ পরামর্শ দেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আলীকদম সফরে আসলে জাতীয়করণের আওতায় আসা আলীকদমের ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়ছড়ি জেলার দুর্গম এলাকায় ২০১১ সালে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি কর্তৃক ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করে। এসব বিদ্যালয়কে সরকার ২০১৭ সালে জাতীয়করণের আওতায় আনেন। কিন্তু সে সময় বিদ্যালয়সমূহে কর্মরত শিক্ষকদের নামের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে গেজেটভুক্ত না করায় শিক্ষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছিল দীর্ঘদিন ধরে।

এসব শিক্ষকরা এ নিয়ে একাধিকবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী, পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহের চেয়ারম্যানদের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন এবং গেজেটের মাধ্যমে আত্মীকরণের আবেদন-নিবেদন জানাতে থাকেন।

আলীকদম উপজেলার কমচঙ ইয়ংছা মাওরুম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিকচন পাল জানান, আলীকদমের ২০টিসহ বান্দরবান জেলার ৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবীর প্রতি সম্মান রেখে সরকার গত ২৬ আগস্ট শিক্ষকদের নামের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেন। এ খসড়া তালিকা প্রকাশের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

নিকচন পাল বলেন, এসব বিদ্যালয়গুলো ইউএনডিপি কর্র্তৃক নির্মাণ করে কয়েকবছর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দিতেন। পরবর্তীতে ইউএনডিপি বিদ্যালয়গুলো পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহে হস্তান্তর করে।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের এসব বিদ্যালয় সরকার জাতীয়করণের আওতায় আনলেও তৎসময়ে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিষয়ে সরকারিভাবে কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে অভাব-অনটন, অনিশ্চয়তা ও হতাশা বিরাজ করছিল। অবশেষে পার্বত্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শিক্ষকদের নামে ‘খসড়া তালিকা’ প্রকাশের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার এসব শিক্ষকরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ও নির্মিতব্য ১৫ কোটি ২৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহাবুবুল আলম, আলীকদম জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মোস্তাক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সায়েদ ইকবাল, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কাজল কান্তি দাশ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষ্মী দাশ, মোজাম্মেল হক বাহাদুর, পিলিপ ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত, জনস্বাস্থ প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন, আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + 20 =

আরও পড়ুন