দেশের ৫০ লাখ নারী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সেবা পাচ্ছেন না


দেশে এখনও প্রায় ৫০ লাখ নারী আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান, কিন্তু সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র এই অপূর্ণ চাহিদা পূরণ করলেই প্রতিবছর ১২ লাখ অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমানো সম্ভব এবং মাতৃমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পাবে। এজন্য পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও কার্যকর ও সবার জন্য সহজলভ্য করার দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী কর্মশালার শেষ দিনে সংশ্লিষ্টরা অংশ নিয়ে এসব কথা জানান। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় অংশ নেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জাতিসংঘ সংস্থা, উন্নয়ন সংস্থা ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি। কর্মশালাটি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এফপি ২০৩০ এর সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় মূলত স্মার্ট অ্যাডভোকেসি পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিবার পরিকল্পনা খাতে শিগগিরই বাস্তবায়নযোগ্য নীতি-সংস্কার, বাজেট নিশ্চিতকরণ এবং সেবা উন্নয়নের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়। কর্মশালায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জোবাইদা বেগম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ নয়, এটি মা ও শিশুর জীবন রক্ষা করে। স্মার্ট অ্যাডভোকেসি নীতি নির্ধারণে আরও নির্দিষ্ট, কার্যকর ও দ্রুত ফলদায়ক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। পূর্বানুমানযোগ্য বাজেট, পদ্ধতি–স্বল্পতা রোধ এবং কিশোরী বন্ধব সেবা সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ম্যারি স্টোপস বাংলাদেশ-এর পার্টনারশিপ ও ফান্ডরেইজিং প্রধান মিস মঞ্জুন নাহার
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফি আহমাদ বলেন, পরিবার পরিকল্পনায় বিনিয়োগ সবচেয়ে লাভজনক জনস্বাস্থ্য বিনিয়োগগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিটি ১ ডলারের বিনিয়োগে বাংলাদেশ ১৪ ডলার সাশ্রয় করতে পারে। মাতৃমৃত্যু ৩০ শতাংশ কমানো এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস করাও সম্ভব।
তিনি আরও জানান, নতুন জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কৌশল ২০২৫–২০৩০ এফপি ২০২৩-এর তিনটি মূল লক্ষ্য শূন্য অপূর্ণ চাহিদা, শূন্য প্রতিরোধযোগ্য মাতৃমৃত্যু এবং শূন্য লিঙ্গ সহিংসতা পূর্ণ করার দিকে এগোচ্ছে।
ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং কর্মশালায় বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে সফল পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির উদাহরণ হলেও অগ্রগতি এখন ধীর। দেশে এখনও ৫০ লাখ নারী আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান, কিন্তু পাচ্ছেন না। শুধু এই অপূর্ণ চাহিদা পূরণ করলেই প্রতিবছর ১২ লাখ অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমবে, আর মাতৃমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পাবে। কিশোরী গর্ভধারণও উদ্বেগজনক।
আন্তর্জাতিক সংস্থা এফপি ২০৩০ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমিতা ব্যানার্জি বলেন, বাংলাদেশ সমতাভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা সেবা বাড়াতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু জনমিতিক ও জলবায়ু–ঝুঁকির মধ্যে টেকসই অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে তথ্য-নির্ভর নীতি ও কমিউনিটিভিত্তিক সেবা।
তিনি জানান, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা তিন দিনের আলোচনায় নিকট-মেয়াদি লক্ষ্য, দায়িত্ব বণ্টন, সময়সীমা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। দেশের পরিবার পরিকল্পনা প্রতিশ্রুতিগুলোকে সামনে রেখে তারা বাজেট, সরবরাহ ব্যবস্থা, সেবার মান ও তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন।

















