নকল টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের রোষানলের শিকার পুলিশ

fec-image

উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের ডিমান্ড মাঠ সংলগ্ন এলাকায় নকল টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে রোহিঙ্গার রোষালনের শিকার হয়েছে পুলিশ। এক পর্যায়ে অভিযানে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয় পুলিশের অভিযানিক দলকে। তবে এসময় পুলিশের একজন সোর্সকে রোহিঙ্গারা মারধর করেছে বলে জানা গেছে। ৩০জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ, রোহিঙ্গা, এনজিওকর্মী ও স্থানীয় লোকজন এবং ক্যাম্প ইনচার্জের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের মোহাম্মদ আলম মাঝি ছেলে আনসার উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে নকল টাকার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে ব্যবসা করে আসছিল।

এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে ক্যাম্প পুলিশ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যেও অনেকে জানে তার এই ভেজাল টাকা বাণিজ্যের কথা। কিন্তু ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মূখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলনা। যার কারণে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হচ্ছেনা পুলিশ।

মঙ্গলবার আনসার উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন ভেজাল টাকা সিন্ডিকেটের সদস্য তার বাড়ীতে অবস্থান করছিল এমন খবরের ভিত্তিতে উখিয়া থানা পুলিশের একটি অভিযানিক দল তার ঘর ঘেরাও করে। এসময় অপরাপর রোহিঙ্গারা জড়ো হয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসলে পুলিশ বাধ্য হয় ফিরে আসে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা জানান, অভিযানের সময় পুলিশের একজন রোহিঙ্গা সোর্সকে রোহিঙ্গারা মারধর করেছে, আর রোহিঙ্গার রোষালনের পড়ে ফেরত আসতে বাধ্য হন পুলিশের অভিযানিক দল।

এ বিষয়ে জানার জন্য কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম জানান, এ ধরনের কোন ঘটনার খবর আমার কাছে আসেনি। তবে এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হবে।

কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের পুলিশের আইসি শহর আলী জানান, আমি শুনেছি উখিয়া থানার একটি অভিযানিক দল ক্যাম্পে আসছিল। কিন্তু আমাকে এ ব্যাপারে কিছু বলেনি। তাই ঘটনার সম্পর্কে আমি কিছু জানিনা।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী উখিয়া থানার এসআই নুরুল হক জানান, আমরা কুতুপালং ক্যাম্পে একটা অভিযানের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি দেখে ফেরত চলে আসি। পুলিশের কোন সোর্স বা সদস্য আহত হয়নি।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমি সারাদিন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকলে ক্যাম্পে ছিলাম। যদি এ ধরনের ঘটনা হত, তাহলে আমি অবশ্যই জানতাম।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × five =

আরও পড়ুন