পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নতুন পর্যটন জোন ‘ নিভৃতে নিসর্গ পার্ক’ 

fec-image

পাহাড়ের সাথে নদীর মিতালিতে অপরূপ কক্সবাজারের নতুন পর্যটন স্পট মানিকপুর পর্যটন জোন `নিভৃতে নিসর্গ পার্ক’ পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। নিত্যদিন বাড়ছে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটক। ইতিমধ্যে নিভৃতে নিসর্গ পর্যটন স্পটটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হারে প্রচার হওয়ায় ভ্রমণ পিপাষু পর্যটকের মাঝে নজর কেড়েছে।  দৃষ্টিনন্দন এ পর্যটন স্পটের প্রকল্পের আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

সকালে তিনি মানিকপুর পর্যটন জোনে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম।

পরে পর্যটন জোনের প্রবেশমুখে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পর্যটন স্পট মানিকপুর `নিভৃতে নিসর্গ পার্ক’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন।

এসময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সচিব, ঢাকা সেনা নিবাসের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট মোহাং শাহজাহান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আল আমিন পারভেজ, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম প্রমুখ।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কক্সবাজারের মান্যবর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এবং অতিথিবৃন্দ মানিকপুর পর্যটন জোনের প্রতিটি লোকেশন ঘুরে ঘুরে দেখেছেন।

ওইসময় সবাই পাহাড়-নদীর মিতালীতে ভরপুর নতুন এই পর্যটন জোন দেখে অভিভুত হয়েছেন। পাশাপাশি পর্যটন জোনের সৌন্দর্য্যবর্ধনে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের গৃহিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভুয়সী প্রশংসাও করেছেন। এরপর সবাইকে নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন পর্যটন জোনের পাদদেশে বয়ে চলা অপরূপ মাতামুহুরীতে নৌকা ভ্রমণে অংশ নেন।

জানা গেছে, পর্যটন জেলা কক্সবাজারের নতুন পর্যটন স্পট মানিকপুরকে ঘিরে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের উজ্জল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একদিকে পাহাড়ের নৈগর্সিক সৌন্দর্য অন্যদিকে পাহাড় লাগোয়া মাতামুহুরী নদীর বিশাল জলরাশি ভ্রমন পিপাসুদের মাঝে দর্শনীয় হয়ে উঠেছে। পাহাড় নদীর এই অপরূপ সানিধ্য পেতে এখন মানিকপুর ছুটে যাচ্ছেন ভ্রমনপিপাসু মানুষ।

এদিকে মানিকপুরের এই দর্শনীয় পর্যটন জোনকে আরও আকর্ষনীয় করে তুলতে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি সময়ে পর্যটন জোনের উন্নয়নে প্রদক্ষেপ নিয়েছেন। এরই অংশহিসেবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্তাবধানে ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে পরিকল্পিতভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মানিকপুর পর্যটন জোনকে ঢেলে সাজাতে কাজও শুরু করেছেন। এরই মধ্যে মানিকপুরের পর্যটন জোনটি বর্তমানে শৈল্পিকতায় ছোঁয়ায় নতুন রূপ পেতে শুরু করেছে। যার প্রেক্ষিতে নিত্যদিন পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে উঠেছে এ পর্যটন স্পটটি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামসুল তাবরীজ বলেন, মানিকপুরের পর্যটন জোনকে পর্যটকদের জন্য আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই আলোকে জেলা প্রশাসনের তত্তাবধানে আমরা সম্প্রতি সময়ে পর্যটন জোনের উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন এই পর্যটন জোনের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনে এসেছেন কক্সবাজারের মান্যবার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। সকালে তিনি এবং জেলা প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা পর্যটন জোনের প্রতিটি স্পট ঘুরে দেখেছেন। পরিদর্শনকালে পর্যটন জোনের সৌন্দর্য্য ও গৃহিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর আগে জেলা প্রশাসক মহোদয় পর্যটন জোনের প্রবেশমুখে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পর্যটন স্পট নিভৃতে নিসর্গ পার্ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেছেন।

নতুন পর্যটন জোন মানিকপুর পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত নতুন পর্যটন স্পট “নিভৃতে নিসর্গ” এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হল। দুপাশে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা নদীপথ বয়ে চলেছে। নৌকাভ্রমণে কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে শ্বেত পাথরের বিশাল পাহাড়। এই অপরূপ শোভা দর্শনে আপনাদের সকলের আমন্ত্রণ রইল।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা সকল সৌন্দর্যের আঁধারে পর্যটন বিকাশে জেলা প্রশাসনের নিরবধি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + eight =

আরও পড়ুন