বান্দরবানে পর্যটক বাড়লেও সুযোগ সুবিধা বাড়েনি

fec-image

শীতে কুয়াশার ছোয়া পেলেই বান্দরবান পাহাড়ের প্রকৃতি পর্যটকদের জন্য মেলে যায়। তাই শীত আসলেই এখানে পর্যটক বাড়ে কয়েকগুন। এবারও বছর শেষে কনকনে শীতের মাঝে ভীড় বাড়ছে পর্যটকদের। আগামী সপ্তাহে পর্যটকের উপস্থিতি রেকর্ড সংখ্যক বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এদিকে পর্যটকদের অভ্যার্থনা জানাতে জেলার হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। ব্যবসায়ীরা রয়েছেন ভালো ব্যবসার আশায়।

পর্যটকদের কাছে স্বপ্ন নগরীর নাম পাহাড় ঘেরা বান্দরবান। এখানে রয়েছে শতাধিক পর্যটক স্পটের পাশাপাশি ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। রয়েছে আলাদা ভাষা ও সংস্কৃতি। সবকিছু মিলিয়ে বান্দরবান এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় স্থান। শীতের আমেজ ও পুরনো বছরের শেষে সময়ের আয়োজন রয়েছে ভ্রমনপিপাসুদের হাতে। তাই নভেম্বর থেকে বান্দরবানে ভ্রমনপিপাসুরা আসতে শুরু করেন। বেশিরভাগ পর্যটক আসেন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। আর সরকারি ছুটি পেলেই বেড়ে যায় পর্যটক আগমন। ছেলে-মেয়ের পরীক্ষা শেষ এবং নতুন বছরকে সামনে রেখে বান্দরবানে এখন সমাগম ঘটেছে হাজার হাজার পর্যটকের। বিশেষ করে গত দুই দিন বান্দরবানের নীলাচল, চিম্বুক, মেঘলায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এসব স্পটে নিয়োজিত একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে গত দুই দিনে এসব পর্যটন স্পটে বিপুল টিকিট বিক্রি হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বান্দরবান শহরের কাছেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে নীলাচল পর্যটন এলাকায় পর্যটকরা মেতে উঠেছেন হই-হুল্লুড় আর আনন্দে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাহাড়ের প্রকৃতি দর্শন ও ছবি তুলে দারুন সময় পার করছেন তারা। শুধু নীলাচলই নয়, ভ্রমনপিপাসুদের জন্য আকর্ষণী মেঘলা, নীলগিরি, চিম্বুক, স্বর্ণমন্দির, রেমাক্রি, নাফাকুম, বড় পাথর, শৈলপ্রপাত, রিঝুক ঝর্ণা, ন্যাচারাল পার্ক, বগালেকসহ পাহাড়ের প্রাকৃতির দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পদচারণা রয়েছে পর্যটকের।
বান্দরবানে পর্যটন স্পট গুলোতে কতটুকু নিরাপদ পর্যটকরা? এই প্রশ্ন করা হয়েছিল কয়েকজন পর্যটকের কাছে।

ঢাকা থেকে স্বজনদের সাথে প্রথম ঘুরতে আসা কলেজ পড়–য়া ছাত্রী ইশরাত মজুমদার জানান- বান্দরবান ঘুরে মনে হয়েছে চারপাশের সবুজের সমারোহ ও নীল আকাশের নিচে সবুজ গালিচা পেতে আছে সবুজ প্রকৃতি। প্রথমে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে মনের মাঝে প্রশ্ন থাকলেও ফেরার পতে মনে হয়েছে নিরাপদেই ভ্রমন করতে পেরেছি। চট্টগ্রামের একটি স্কুল থেকে সহপাঠীদের সাথে ঘুরতে এসেছেন সুমা দাশ। সেইও প্রথম বান্দরবানে এসেছে। মেঘলা ও নীলাচল পর্যটন ঘুরেছে সময়ের অভাবে দূরের স্পটগুলোতে এখনো যেতে পারেনি। কিন্তু একদিনের সফরে বান্দরবানের কোথাও তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি।

শনিবার সকালে বান্দরবান শহরের নিকটে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে কথা হয় সরকারি চাকুরিজীবী মোসলেম হাওলাদ এর সাথে। তিনি ঢাকা থেকে পরিবারসহ সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার সফর শেষে এসেছেন বান্দরবানে। তিনি এই পার্বত্যনিউজ জানান- অপার সম্ভাবনা রয়েছে বান্দরবানে। কিন্তু মেঘলায় প্রবেশের পর কিছু ত্রুটি দেখা গেছে। ভিতরে ক্যাবল কার আছে অনেক পর্যটক জানেনা। কিন্তু ক্যাবল কারের নিকটে কোন টিকিট কাউন্টার রাখা হয়নি। পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে মূল গেইটে। এছাড়া নারায়নগঞ্জ থেকে স্ত্রী ও বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন বেঙ্গল গ্রুপের এজেন্ট ব্যবসায়ী রাজিব।

তিনি জানান- বান্দরবানে প্রবেশের পর কোথায় ঘুরব, কিভাবে যাবো বা সুযোগ সুবিধা নিয়ে কোন পরামর্শ বা দিকনির্দেশনার অভাবে পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই সফরের আগেও তিনি কয়েকবার বান্দরবানে এসেছেন কিন্তু পর্যটন উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধার তেমন কোন পরিবর্তণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে গত দুই দিন সরেজমিনে পর্যটন স্পটগুলোতে হাজার হাজার পর্যটক দেখা গেলেও পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টারা অজ্ঞাতকারনে পর্যটক উপস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে বান্দরবান শহরের কয়েকজন হোটেল ও বার্মিজ মার্কেটের ব্যবসায়ী জানান- নভেম্বর থেকে বান্দরবানে পর্যটক আসা শুরু করে। গত কয়েকদিন কিছু পর্যটক এসেছে। আগামী সপ্তাহে ছুটির দিনে পর্যটক উপস্থিতি আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

পরিবহণ শ্রমিক মো. আলমগীর জানান- বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বান্দরবানে প্রচুর পর্যটকের উপস্থিতি ছিল। যার কারণে নীলাচলের প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় যানযটের সৃষ্টি হয়। পর্যটক আসতে থাকায় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরাও ব্যস্থ সময় পার করছেন।

এদিকে প্রতি বছরের ন্যায় বান্দরবানে এবারও পর্যটক ভীড়ের সুযোগে পরিবহণ ও হোটেল-রেস্টুুরেন্টগুলোতে পর্যটক হয়রাণির অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজারের লিংকরোড় এলাকা থেকে একটি সংগঠনের ব্যানারে পাহাড়ি প্রকৃতি দেখতে এসেছেন উর্মি কুলসুম। তিনি বলেন- কক্সবাজারে হোটেল ও পরিবহণ সেক্টরে পর্যটকরা যে সেবা পান তা বান্দরবানে পাওয়া যায়না। সবকিছু অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয় পর্যটকদের কাছে। তারমতে, বিভিন্ন পর্যটন স্পটে প্রবেশ ফি নিয়েও হয়রানি হচ্ছে পর্যটকরা।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তত রয়েছে প্রশাসন জানালেন বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন, থার্টি ফাস্ট নাইট, ইংরেজি নববর্ষ। এসময় পাহাড়ে অনেক পর্যটক আসে। তাদের কথা মাথায় রেখে এখানে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়োজিত রয়েছেন।

মেঘলাস্থ ট্যুারিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা আবদুল হান্নান জানান- পর্যটকদের নিরাপত্তায় তিনস্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোন পর্যটক যাতে ভ্রমণ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পর্যটক, বান্দরবানে
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + 5 =

আরও পড়ুন