পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়া, মিশ্র ফল ও তিত করোলা চাষে কৃষকের মুখে হাসি

fec-image

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান । যেখানে প্রকৃতি তার নিজস্ব রূপে নানাভাবে সেজেছে এবং উপহার দিয়েছেন নানা জীববৈচিত্র্য । এরই মাঝে বান্দরবানের পাহাড়ে পাওয়া যাচ্ছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আর সুস্বাদু মিশ্র সবজি ও মিষ্টি কুমড়া।

যে কোন ঋতুতে বান্দরবানে আসলেই পাহাড়ে উৎপাদিত হালকা মিষ্টি স্বাদের মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায় সারা বছরজুড়ে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে মিষ্টি কুমড়ার চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।

চাহিদা থাকায় বান্দরবানের পাহাড়ে জুম চাষের পাশাপাশি বাড়ছে মিষ্টি কুমড়া ও মিশ্র সবজি চাষও। ফলে বাম্পার ফলনের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, সদরসহ জেলার সাত উপজেলায় চলতি বছর ৫৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। এরমধ্যে পাহাড়ের ঢালুতে জুম চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এখানে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া। গত বারের তুলনায় এ বছর চাষ বেড়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার মেট্রিক টন।

চিম্বুক এলাকার চাষী লুসাই বম জানান, চিম্বুক, ওয়াই জংশন, টংকাবর্তী, মাঝেরপাড়া, সূয়ালক, চিম্বুকসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে জুম চাষে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন তারা। প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া ৭ থেকে ৮ টাকায় এবং মণ ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ী জুমলায় মুরং বলেন, এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়াতে ভালো ফসল হয়েছে আমরা অনেক লাভবান হয়েছি। পাহাড়ের টংকাবর্তী থেকে প্রতি মণ মিষ্টি কুমড়া ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় কিনে গাড়িতে করে চট্টগ্রামে নিয়ে প্রতি মণ ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

চাষী লাথোয় মারমা বলেন ,, এ বছর মিষ্টি কুমড়ার পাশাপাশি মিশ্র সবজি হিসাবে তিত করলা চাষ করেছি, তিত করলাতে ভালো লাভ হয়েছে

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়ছে। দুটি মৌসুমেই এখানে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে। বলতে গেলে সারা বছরই এ অঞ্চলের বাজারে মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায়। উৎপাদন বেশি হওয়ায় কারণে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে চাষীরা। এছাড়া উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষীরা উৎপাদিত সবজি সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারছেন। সমস্যা থেকে উত্তরণে চাষীদের কৃষক সংগঠন করে নিজেরাই নিজেদের পণ্য বাজারজাত করণ করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে’ মিষ্টি কুমড়ার পাশাপাশি এই বছর চাষিরা মিশ্র ফসল হিসাবে তিত করলা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বেশি বৃষ্টিপাত না হওয়াতে এবছর কৃষকরা ব্যাপকহারে আনন্দিত ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − one =

আরও পড়ুন