পুড়ে যাওয়া বসতিতে ফিরতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা

fec-image

কক্সবাজারের উখিয়ার শফিউল্লাহকাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে ৬’শ বসতি পুড়ে ছাই হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গা। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে পুড়ে যাওয়া বসতিতে ফিরতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা। প্রকৃত ঘটনা তদন্তে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা নয়নকে এ কমিটির প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ মোহাম্মদ রেজওয়ান হায়াত।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ এপিবিএন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন বলেন, অগ্নিকান্ডে পুড়েছে রোহিঙ্গাদের থাকার ঘর, ফায়ার ড্রাম,ওয়াটার ট্যাংক,কিচেন আইটেম, গ্যাস সিলিন্ডার, ফ্লোর ম্যাট আরো অনেক কিছু। এতে আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, আগুনে ঘর পুড়েছে ৪৬৭টি রোহিঙ্গার এবং ১০টি  স্থায়নীয়দের। এসময় ঘর ভাংচুর হয়েছে ১২০টি।

তিনি আরও বলেন, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের এনজিও সংস্থা  ব্র্যাক, রিক শুকনো খাবার দিয়ে যাচ্ছে। খাবারের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে এমএসআই।

সরেজমিন শফিউল্লাহকাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল হতে বিভিন্ন জায়গা থেকে পুড়ে ছাই হওয়া সেই জায়গায় ফিরে আসতে দেখা গেছে রোহিঙ্গাদের। দলেদলে পরিবারসহ পুরনো ঠিকানায় ফিরছে তারা। অনেকেই নতুন কাঠ, বাস নিয়ে ফিরছে। দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা আহত মানুষদের সেবা প্রদান করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আবুল কাশিম (৬৫) নামের এক রোহিঙ্গা জানান, আমাদের বাড়িঘর ও খাবারসহ সব পুড়ে গেছে। গত রাত আমরা পরিবারসহ খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করেছি। সর্বস্ব হারিয়ে এখন পুড়ে যাওয়া স্থানেই ফিরেছি। ছৈয়দুল আহমদ নামের আরেক রোহিঙ্গা জানান, বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ায় পরিবারসহ পাশ্ববর্তী ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছিলাম। এখন পরিবারসহ এখানে আসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার সাথে সাথে প্রাণে বাঁচতে রোহিঙ্গা নিরাপদ স্থা নে যায়। অনেকেই বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, অগ্নিকান্ডের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যান্তরে বসবাসরত ক্ষতিগ্র স্থানীয় ১৪টি পরিবারকে ৭হাজার ৫’শ টাকা করে মানবিক অর্থ সহায়তা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। দ্রুত স্থানীয়দের জরুরী সহায়তা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় তাৎক্ষণিক ভাবে ৭হাজার ৫’শ টাকা করে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঘর নির্মাণের জন্য টিন, কাঠ বরাদ্দের জন্য এনজিও সংস্থা গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে৷

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + six =

আরও পড়ুন