পেকুয়ার ইউএনওর উপর রাজাখালী ইউপির চেয়ারম্যানের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আচমকা ইউএনওর উপর হামলা চালিয়েছে রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর শওকত হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ৩জুলাই দুপুর ১ টার দিকে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর শওকত হোসেন রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৭/৮ জন ইউপি সদস্যের সাথে মিটিং করার সময় হঠাৎ করে কয়েকজন দাগী সন্ত্রাসী সাঙ্গপাঙ্গ সহ রাজাখালীর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল তার কার্যালয়ে ঢুকে প্রথমেই মেম্বারদের ধাওয়া দেয়। এতে ভয়ে ইউপি সদস্যরা ইউএনও অফিস থেকে পালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন রুমে ঢুকে পড়ে আত্মরক্ষা করলে চেয়ারম্যান বাবুল ইউএনওর কাছে তার ইউনিয়নের বিশেষ ভিজিএফে স্বাক্ষর দিচ্ছেনা কেন জানতে চায়।

এসময় ইউএনও তাকে জানান, ‘আপনি সকল ইউপি মেম্বারদের স্বাক্ষর নিয়ে তালিকা নিয়ে আসেন আমার স্বাক্ষর দিতে কোন আপত্তি থাকবেনা।’ এতেই চেয়ারম্যান বাবুল ইউএনওর উপর উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গাল্গাল শুরু করে একপর্যায়ে চেয়ার নিয়ে ইউএনওকে মারতে উদ্দ্যেত হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ইউএনও অফিসের কয়েকজন কর্মচারী। এসময় বেশ কয়েকজন দাগী সন্ত্রাসী উপজেলার গেইট ও ইউএনও কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তাদের ভয়ে ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারীরাও তটস্থ ছিল। পরে চেয়ারম্যান বাবুলকে উপজেলা ভবনের নীচে নেমে অবস্থানরত লোকজনকে টাকা বিলি করতে দেখা যায়।

উপজেলার কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল বেশ কয়েকবছর আগেও উপজেলা ভবনে বিআরডিবির অফিসের প্রধান উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র রায়কে বেদম মারধর করে আহত করেছিল। সেবার ইউএনও হুমায়ূন কবীরের কাছে ক্ষমা চেয়ে কোনরকম পার পেলেও এবার সরাসরি ইউএনওর উপর হামলা করায় হতবাক হয়ে যায় উপজেলার কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর শওকত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাজাখালীর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলজিএসপির ৬ টি প্রকল্পের সমুদয় টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় জেলা স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর রাজাখালী ইউনিয়নের বরাদ্দ স্থগিত করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায়।

এছাড়াও বর্তমানে সরকারের দেয়া বিশেষ বরাদ্দের জন্য চেয়ারম্যান নজরুল তার মনগড়া একটি তালিকা দেয় যাতে ৮ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর না থাকায় অনুমোদন দেয়া সম্ভব হয়নি। তার অন্যায় আবদার রাখতে না পারায় সে সন্ত্রাসীদের নিয়ে অফিসে ঢুকে উচ্চস্বরে আন-অফিসিয়াল ভাষা ব্যবহার শুরু করে। এ বিষয়ে তিনি ডিসি সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান।

ঘটনার সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা ভবনে উপস্থিত না থাকলেও এ প্রতিবেদকে টেলিফোনে জানান, রাজাখালীর চেয়ারম্যান কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপর হামলার ঘটনায় তারা বিষ্মিত হয়েছেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন সরকারী কর্মকর্তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোন অবস্থাতে মেনে নেয়া যায়না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − 8 =

আরও পড়ুন