পেকুয়া সড়কে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করলেন ইউএনও
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
পেকুয়ার প্রধান সড়ক সৌর বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এবিসি সড়ক হয়ে চৌমুহনীর ব্যস্ততম পয়েন্ট আজিজ কলোনী পর্যন্ত লাইট স্থাপন করা হয়েছে। ইলেক্ট্রিসিটি ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে পেকুয়ায় এ আলো জ্বালানো হয়।
গত এক সপ্তাহ ধরে পেকুয়ার প্রধান ব্যস্ততম প্রশাসনিক কেন্দ্র চৌমুহনী থেকে বাজার পর্যন্ত সড়কে সৌর বিদ্যুতের বাল্ব জ্বালানো হয়।
স্থানীয়রা ইউএনও’র প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও তৎপরতায় সড়কে শোভা পেয়েছে সৌরবিদ্যুত লাইটিং ব্যবস্থা। একই ভাবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হয়ে মগনামা-চকরিয়া সড়কের পেকুয়া মিয়াপাড়া থেকে বাজার পর্যন্ত লাইটিং সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে।
জানা গেছে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে সড়ক আলোকিত করন এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ওই প্রকল্পের জন্য সরকারের বরাদ্দ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজ্বী মোঃ ইলিয়াছ ৫লাখ ৪০হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন। অবশিষ্ট অর্থের যোগান দিয়েছেন পেকুয়ার ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান। তিনি উপজেলার উন্নয়ন বরাদ্ধ থেকে লাইটিং ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে টাকা দিয়েছেন। তবে পেকুয়াকে আলোকিত করতে এ প্রথম প্রশংসনীয় ও দৃষ্টি নন্দন উদ্যোগটি নিয়েছেন ইউএনও।
দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে পেকুয়ার প্রধান প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সৌর বিদ্যুৎ দ্বারা আলোকিত করার এ অগ্রযাত্রা চলমান থাকবে। সম্প্রতি পেকুয়াকে আলোকিত করতে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পেকুয়ার চৌমুহনীস্থ ইউনাইটেড সোলার এন্টরপ্রাইজের ঠিকাদার হিসেবে হাজী বদিউল আলমকে দায়িত্বভার দেওয়া হয়।
জানা গেছে ৪০টি বাল্ববের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৫টি বাল্ব সড়কে স্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বাল্ববের জন্য এ্যালুমিনিয়াম পাইপ ছাড়াও প্রতিটিতে এলইডি বাল্ব, প্রায় ৬হাজার এম্পিয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারী ও একটি করে সৌর প্যানেল রয়েছে।
শোভা বর্ধনের জন্য প্রত্যেক খুঁটিতে সংযোজন করা হয়েছে একটি করে ফুলের টব। নার্সারীর বর্ধনশীল এক বিশেষ লতা জাতীয় উদ্ভিদ ওই টবে শোভা পেয়েছে যা দৃষ্টি নন্দন ও পথচারিদের নজর কাড়ে।
জানা গেছে প্রত্যেকটি খুঁটি ও লাইটের জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকার অধিক ব্যয় হয়েছে। সৌর বিদ্যুতের আলোতে পেকুয়ার চেহারা পাল্টে গেছে। যেসব স্থানে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকত এ সড়কটি এখন সন্ধ্যার পর অটোমেটিক জ্বলে উঠছে সৌর বিদ্যুতের লাইট।
সড়কে লাইটিং ব্যবস্থা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছাস তৈরী হয়েছে। তারা এটিকে সরকারের দৃষ্টি নন্দন উদ্যেগ বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে পেকুয়ার ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান বলেন সব কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। সেখানে পেকুয়া অন্ধকার থাকতে পারেনা। আমি এখানে যোগদান করার পর থেকে ভেবেছি কিভাবে পেকুয়াকে আলোকিত করা যায়। এটি করতে সক্ষম হয়েছি। এমপি মহোদয় আমাকে একাজে সহায়তা করেছেন।


















