ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৭৭ রানের লক্ষ্য দিলো ভারত

fec-image

বিশ্বকাপের প্রথম থেকেই বিরাট কোহলির ব্যাটে রান নেই, দুশ্চিন্তায় পড়েননি রোহিত শর্মা। ভারতের অধিনায়ক বলেছিলেন, ফাইনালের জন্য নিজেকে তুলে রেখেছেন ডানহাতি ব্যাটার। তার কথা সত্যি হলো। ৭৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ভারতকে এনে দিলেন ১৭৬ রানের সংগ্রহ। ৭ উইকেট হারিয়ে এই রান করেছে ভারত। তাতে ৪৭ রান করে দারুণ অবদান রাখেন অক্ষর প্যাটেল।

পাওয়ার প্লের মধ্যে ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল ভারত। কোহলি ও অক্ষর ৭২ রানের দারুণ জুটি গড়ে ওই ধাক্কা সামাল দেন। অক্ষর তিন রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। তবে কোহলি ৪৮ বলে পঞ্চাশ ছোঁন। শিবম দুবেকে সঙ্গে নিয়ে ৩৩ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়ে তিনি আউট হন।

১৯তম ওভারে মার্কো ইয়ানসেনের বলে ৭৬ রান করে আউট হলেন বিরাট কোহলি। চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করলেন তিনি। ৫৯ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে এই রান করে কাগিসো রাবাদাকে ক্যাচ দেন ডানহাতি ব্যাটার। ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতে শিবম দুবে বিদায় নেন। ১৬ বলে তিন চার ও এক ছয়ে আনরিখ নর্কিয়ের শিকার হন তিনি ডেভিড মিলারকে ক্যাচ দিয়ে। শেষ বলে নর্কিয়ে ফেরান রবীন্দ্র জাদেজাকে (২)।

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির ব্যাটে রান আসছিল না। সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছিলেন তিনি। তবে তার ওপর আস্থা হারাননি ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ফাইনালের জন্য নিজেকে তুলে রেখেছেন কোহলি, এমন বিশ্বাস ছিল তার। অবশেষে ভারতীয় ডানহাতি ব্যাটার হাফ সেঞ্চুরি করে নিজের ছায়া থেকে বেরিয়ে এলেন। ১৭তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে ৪৮ বলে চারটি চারে ফিফটি করেন তিনি।

দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে কুইন্টন ডি ককের চমৎকার থ্রোতে নন স্ট্রাইক প্রান্তে রানআউট হলেন অক্ষর প্যাটেল। ১০৬ রানে চার উইকেট পড়লো ভারতের। ৩১ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৪৭ রানে আউট হন অক্ষর। বিরাট কোহলিকে নিয়ে ৫৪ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন তিনি।

দ্রুত তিন উইকেট পড়ার পর প্রমোশন পেয়ে পাঁচে ব্যাটিং করতে নামলেন অক্ষর প্যাটেল। দলের স্বীকৃত এই বোলার বিরাট কোহলিকে নিয়ে দলকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন। পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে এই জুটি। প্রথম বলেই চার মারেন অক্ষর। এইডেন মারক্রাম, কেশব মহারাজ ও তাবরা্ইজ শামসিকে ছক্কাও মারেন তিনি। ১৩তম ওভারে কাগিসো রাবাদাকে ছক্কা মেরে দলীয় স্কোর একশ পার করেন।

কাগিসো রাবাদার বলে ভারতের আরেক ব্যাটার ফিরে গেলেন। পঞ্চম ওভারে সূর্যকুমার যাদব ৪ বলে ৩ রান করে ফিরলেন। ফাইন লেগে আইনরিখ ক্লাসেনের চমৎকার ক্যাচে ফিরতে হলো তাকে। ৩৪ রানে তিন উইকেট পড়লো ভারতের। পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের রান ৩ উইকেটে ৪৫।

দ্বিতীয় ওভারে কেশব মহারাজকে টানা দুটি চার মারেন রোহিত শর্মা। তৃতীয় বলে রান নিতে পারেননি। পরের বলে স্কয়ার লেগে আইনরিখ ক্লাসেনকে ক্যাচ দেন ভারতের অধিনায়ক। ৫ বল খেলে ৯ রান করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। ক্রিজে এসে প্রথম বলে রানের খাতা খুলতে পারেননি রিশাভ পান্ত। পরের বলে ব্যাটের মাথায় লেগে বল ধরা পড়ে কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসে। দুজনই সুইপ করতে গিয়ে বিদায় নিলেন। প্রোটিয়া স্পিনারের জোড়া আঘাতে ২ ওভার শেষে ২৩ রানে ২ উইকেট নেই ভারতের।

প্রথম ওভারে মার্কো ইয়ানসেনকে তিন বাউন্ডারি মেরেছেন বিরাট কোহলি। তাতে ১৫ রান তুলেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে এটাই প্রথম ওভারে সবচেয়ে খরুচে বোলিং।

টসে মুদ্রা ছোড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম। টেলস কল করেন রোহিত শর্মা। টস জিতে ভারতের অধিনায়ক আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও একই একাদশ নিয়ে খেলবে।

সাত মাসের ব্যবধানে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত। গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে পারেনি রোহিত শর্মার দল। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা কি পারবে ১৩ বছরের আক্ষেপ ঘুচাতে? বেশ দাপটের সঙ্গে এবারের ফাইনালে ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তাদের প্রতিপক্ষ দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা প্রথমবার যে কোনও ফরম্যাটের বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবার উঠেছে। বারবাডোসে বাংলাদেশ সময় আজ রাত সাড়ে ৮টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: কুইন্টন ডি কক, রিজা হেনড্রিকস, এইডেন মারক্রাম (অধিনায়ক), আইনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নর্কিয়ে, তাবরাইজ শামসি।

ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, রিশাভ পান্ত, সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, আর্শদীপ সিং, যশপ্রীত বুমরা।

মাঠে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে টস হয়তো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস ফ্যাক্টর ও এর পরিসংখ্যান দেখে নেওয়া যেতে পারে।

এই ভেন্যুতে ২৯টি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে টস জয়ী দল ম্যাচ জিতেছে ১৮ বার। টস জিতে ১৩ বার আগে ব্যাটিং নিয়ে জয় পেয়েছে ১০ টি-টোয়েন্টি। অন্যদিকে ১৯ বার প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ জিতেছে আটটি, হার ৯ বার।

চলতি বিশ্বকাপে ফল পাওয়া ছয় ম্যাচের মধ্যে টস জয়ী দল খেলায় জিতেছে তিন বার। আট ম্যাচের মধ্যে অধিনায়কেরা প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিন বার, আর রান তাড়া করতে চেয়েছেন পাঁচ বার। ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিন ম্যাচে একবার জয় দেখেছে টস জয়ী দল। আর পাঁচ ম্যাচে রান তাড়া করতে নামা দল জিতেছে তিন বার।

এই আসরে বারবাডোসের এই ভেন্যুতে ওমান বনাম নামিবিয়ার ম্যাচটি টাই হয়েছিল। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের খেলা বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়।

ফাইনালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এগিয়ে আছে টস জয়ী দল। আট বিশ্বকাপ ফাইনালের মধ্যে সাত বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টস জেতা দল।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন