বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায় মৈত্রী পানি বর্ষণে মাতোয়ারা

fec-image

‘সাংগ্রাইংমা ঞি ঞি ঞা ঞা রি্কেজাই গাইপামে’ গানে গানে প্রাণের উৎসব সাংগ্রাইয়ের মৈত্রী পানি বর্ষণে আনন্দে মেতেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় বান্দরবান সাংগু নদীর চড়ে মাহা সাংগ্রাইং পোয়েঃ মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো.তোফাজ্জল হোসেন।

শুরুতেই সাঙ্গু নদীর বালু চরে জড়ো হতে থাকেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। সেই আনন্দকে ভাগাভাগী করতে ছুটেও এসেছেন পর্যটকরা। শতাশত মানুষ উপস্থিতে মুখরিত হয় মৈত্রীবর্ষণ।

দু’পাশে নৌকা বসিয়ে তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছড়াছড়িতে উল্লাসে মেতে উঠেছে এই দিনটি। ন তুন বছরকে বরণ করতে ছোট থেকে শুরু করে তরুণ-তরণী কিংবা বয়স্করাও আনন্দে মাতোয়ারা। একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দিত সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। বান্দরবান শহর জুড়ে পানি ভেজানো থেকে রেহাই পাইনি যে কেউ। শুধু সবার মুখে একটি কথা শোনা গেছে হ্যাপী সাংগ্রাই (শুভ মৈত্রী বর্ষণ)। পানিতে ভিজে আনন্দিত সকল সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীরা।

পাশাপাশি পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নিজেদের ঐতিহ্য পোশাকে ও সংস্কৃতির সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন মারমা শিল্পীরা। সে সুরের ছন্দে আনন্দে মেতে উঠে সকল ধর্মের মানুষ। দীর্ঘ দুই বছর অপেক্ষা পর এই দিনটিকে পেয়ে প্রফুল্লিত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক তমা চৌধুরীর জানান, এই দিনে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি পল্লীগুলোতে মারমা জনগোষ্ঠীরা পানি বর্ষণ খেলবে। সেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে দুইদিন আগে বান্দরবানে আসছি এবং আমরা খুব আনন্দিত।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের রিনা চাকমা বলেন, আজ বড় আনন্দের দিন। দুই বছর অপেক্ষা পর এই দিনটি পেয়েছি। পানি বর্ষণ মানে পুরানো বছরে জর্জরিত দুঃখ কষ্ট ইত্যাদি মুছে দিয়ে নতুন বছরে দিনগুলি যেন সুখে কাটে।

আয়োজকরা জানান, আগামীকাল শুরু হবে পিঠা উৎসব। গ্রামে গ্রামে পিঠা বানিয়ে বৌদ্ধ বিহারে দায়ক-দায়িকা ও বৌদ্ধ উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে। মৈত্রীময় পানি ছিটানোর মধ্যদিয়ে এ বছরের মহা সাংগ্রাই পোয়ে. অনুষ্ঠান শেষ হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − 6 =

আরও পড়ুন