বান্দরবানের লামায় বন্য হাতির আক্রমণে বৃদ্ধার মৃত্যু

fec-image

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কালাইয়ার আগা নামক স্থানে হাতির পালের আক্রমণে তার মৃত্যু হয়।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ভোররাত সোয়া ৪টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত জহুরা বেগম (৫৫) প্রকাশ মাজেদার মা সরই ইউনিয়নের কালাইয়ার আগা এলাকার ফজলুল হক এর স্ত্রী।

হাতির হামলায় বৃদ্ধার নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মো. শফিউল আলম বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই ভোরে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করি। পরিবারের লোকজনের সম্মতিতে ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল আলম জানান, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত রাতে ২টি হাতির পাল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কালাইয়ার আগা ও যুগবনিয়া পাড়ায় ৮/১০টি মানুষের বসতবাড়ি ভেঙ্গে ফেলেছে। প্রতিনিয়ত বন্য হাতির পালটি মানুষের ক্ষতি করে যাচ্ছে। এই বিষয়ে তিনি বন বিভাগের সহায়তা কামনা করেছেন।

হাতির হামলা চালানোর সময় নিহত জহুরা বেগমের সাথে ছিল তার ছেলে মো. জিয়াবুল (১৫)।

মো. জিয়াবুল বলেন, বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ভোর রাত সোয়া ৪টায় বন্য হাতির পালটি আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। রাতে আমি আমার মা ও আমার এক মামাতো বোন মোট তিনজন বাড়িতে ছিলাম। হাতির পাল বাড়ির চারপাশে যখন ভাংচুর শুরু করে, তখন আমার মা ঘরের দক্ষিণের জানালা ভেঙ্গে আমাকে ও আমার মামাতো বোনকে ঘর থেকে বের করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা পাশের জঙ্গলে গিয়ে লুকিয়ে পড়ি। তখন হাতির পালটি ঘরের উত্তর পাশে ছিল। শেষে আমার মা জানালা দিয়ে বের হলে তিনি হাতির সামনে পড়ে যায়। তখন হাতি তাকে দুমড়ে মুছড়ে ও আচঁড়িয়ে মেরে ফেলে। রাতে আমার বাবা বাড়িতে ছিলনা।

স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, হাতির পালটি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে দুই দিকে হামলা চালায়। যুগবনিয়া পাড়া ও কালাইয়ার আগা গ্রামে বন্য হাতির পালটি ৮/১০টি ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলেছে এবং বেশ কিছু ফসলের মাঠ নষ্ট করেছে। বন্য হাতির পালে ১৪টি হাতি ছিল।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নিহত, বান্দরবান, হাতির পাল
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − five =

আরও পড়ুন