বান্দরবানে ম্রোদের প্রাক বর্ষবরণের উদ্বোধন করেন বীর বাহাদুর এমপি

Bandarban mro pic-3 12.4
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বান্দরবানের টংকাবতীর সাকখয় পাড়ায় ম্রো সম্প্রাদায় প্রাক বর্ষবরণ পালন উৎসব পালন করেছে। ম্রোরা নববর্ষকে তাদের ভাষায় চাংক্রান বলে। চাংক্রান উপলক্ষে লোকনৃত্য, কোমর তাঁত বুনন ও ম্রোদের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন পাড়া থেকে দল বেধে শত শত যুবক, যুবতী নারী পুরুষ সাকখয় পাড়ার ব্রিক ফিল্ড মাঠে উৎসবে মেঠেছে। শনিবার চাংক্রান উৎসবের উদ্ধোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি।

ম্রো যুবকরা তাদের ঐতিয্যবাহী পোশাকে মুখে ঠোকে টকটকে লাল রং লাগিয়ে আর মাথায় চুলোর খোপায় ফুল গুজিয়ে উৎসবে এসেছে। আবার অনেকের মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে বিশেষ ধরনের তৈরী বাঁশি বাজিয়ে দলে দলে মাঠে এসেছে। আর যুবতী হাতে রুপার কাঁকন, পায়ে বালা ও গলায় রংবেরং এর পুতির মালা ও রুপার তৈরী গলা থেকে কোমর পর্যন্ত চেইন পরিধান করে চুলের খোপায় রংবেরং এর ফুল গজিয়ে মুখে বিভিন্ন ধরনের প্রসাদনি লাগিয়ে স্বক্রিয় রংবেরং পোশাকে উৎসব পালনে সাকখয় পাড়ার ব্রিক ফিল্ড মাঠে উপস্থিত হয়েছে।
চাংক্রান উৎসবে নাচে-গানে মাতিয়েছেন ম্রো তরুণ-তরুণীসহ নারী-পুরুষেরা।

এ ছাড়া ম্রো জনগোষ্ঠী দল বেঁধে লোকনৃত্য, লোকসংগীত, কোমর তাঁতে কাপড় বুনন, পুতির মালা গাঁথা ও পিঠা তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন চলে। এছাড়া চলে ¤্রােদের ক্রীড়া প্রতিযোগীতা। শক্তি ও কৌশল খাটিয়ে চলে এক পাড়ার সাথে অন্য পাড়ার যুবক ও বিবহিতদের বাঁশ নিয়ে টানা টানি ও বাঁশ নিয়ে ঠেলা ঠেলি প্রতিদযোগীতা। সবশেষে ¤্রােদের গো হত্যার নারী-পুরুষদের ঐতিয্য নাচ।

অনুষ্ঠানের সর্বশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের পালা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে ঘিলা খেলার মাধ্যমে শনিবার বান্দরবান সদর উপজেলার রেইছায় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিষু উৎসব শুরু হয়েছে। ঘিলা হচ্ছে জঙ্গলি লতায় জন্মানো এক প্রকার বীজ বা গোটা। ঘিলা তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের নানা কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় বস্তু এটি। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, ঘিলার লতায় ফুল থেকে বীজ (গোটা) জন্মালেও এর ফুল পবিত্র দেবংশি (স্বর্গীয়) বস্তু হওয়ায় সাধারণ মানুষ ঘিলা ফুলের দেখা পান না। শুধুমাত্র যারা মহামানব হয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন তারাই এ ফুলের দেখা পান। ফুলের পরিবর্তে ঘিলা (বীজ গোটা) পবিত্র হিসেবে সংগ্রহ রাখেন তঞ্চঙ্গ্যারা।

ঘিলা বাড়িতে রাখলে বজ্রপাত, বিপদ ও অপদেবতা বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে না বলে তাদের ধারণা। ঘিলা খেলায় বান্দরবান-রাঙামাটি জেলার ২৭টি গ্রামের তঞ্চঙ্গ্যা তরুণ-তরুণীরা চৌদ্দটি দলে বিভক্ত হয়ে ঐতিহ্যবাহী এই খেলায় অংশ নেন। এ ছাড়া পূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অর্থাৎ চৈত্র মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখ বছরের শেষ দু’দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই, ¤্রাে সম্প্রদায় চাংক্রান, খেয়াং সম্প্রদায় সাংগ্রান, খুমী সম্প্রদায় সাংগ্রাই, চাকমা সম্প্রদায় ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় বিজু এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসু নামে এ বৈসাবি উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন