বিএনপি জিততেই পদ্মার জল ভাগাভাগিতে এলো দিল্লির সবুজ সঙ্কেত

fec-image

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে জিততে না জিততেই পদ্মার জল ভাগাভাগিতে দিল্লীর সবুজ সঙ্কেত এসেছে। দু’দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই জলচুক্তি আরো বাস্তবসম্মত করতে বিএনপি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় নয়াদিল্লি। আলোচনার মাধ্যমে মোদী সরকার চাইছে পুরানো চুক্তিটি পুরোপুরি বাতিল করে নতুন করে একটি চুক্তি করতে। যে চুক্তির দ্বারা দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে তুলতে চায় ভারত সরকার।

বাংলাদেশের পদ্মা নদী মানে ভারতের জন্য গঙ্গা নদী। ভারতে এই চুক্তি গঙ্গা জলভাগাভাগি চুক্তি নামেই বেশি পরিচিত। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি ৩০ বছরের জন্য করা হয়েছিল, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে। এই চুক্তি শুধু জলের ভাগাভাগি নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কেরও পরীক্ষা। বাংলাদেশ চায় ন্যায়সঙ্গত অধিকার।

এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে যে, শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ক্রমবর্ধমান জলের চাহিদা থাকে। নয়াদিল্লি দাবি করেছে যে মার্চ থেকে মে মাসের লিন সিজনে অতিরিক্ত ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কিউসেক জলের প্রয়োজন হবে, যা কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা, কৃষি, পানীয় জল এবং শিল্পের চাহিদা মেটাতে অপরিহার্য। বর্তমান চুক্তি অনুসারে, ফারাক্কা বাঁধে গঙ্গার জল ভাগ হয় ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত। শুষ্ক মওসুমে মার্চ ১১ থেকে মে ১১ তারিখ পর্যন্ত ১০ দিনের চক্রে দুই দেশ পর্যায়ক্রমে ৩৫ হাজার কিউসেক জল পায়।

যদি ফারাক্কায় জলের পরিমাণ ৭০ হাজার কিউসেকের কম হয়, তাহলে ভাগাভাগি অন্যভাবে হয়। এই ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে একটা ভারসাম্য রক্ষা করেছিল, কিন্তু গত তিন দশকে পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, গ্লেসিয়ার গলা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত বৃষ্টি বা খরা সব মিলিয়ে গঙ্গার জলপ্রবাহ অস্থির হয়ে উঠেছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতে জনসংখ্যা বেড়েছে, কৃষি ও শিল্পের চাহিদা বেড়েছে।

ফলে পুরনো সূত্র আর যথেষ্ট মনে হচ্ছে না। অন্যদিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্যচাষ, পানীয় জল এবং সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় এই জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে শুষ্ক মৌসুমে জল কমে যাওয়ায় লবণাক্ততা বাড়ছে, নদীর নাব্যতা কমছে, চাষের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। তারা চায় ন্যূনতম জলের নিশ্চয়তা এবং আরও ন্যায্য ভাগ।

মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাই বাংলাদেশে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। ২০২৬-এর শুরুতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে ফারাক্কা ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে জলের মাপকাঠি নেওয়া শুরু করেছে। জয়েন্ট রিভার কমিশনের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশে ২০২৪-এ শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করছে বিএনপি। তাই নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করাই ভালো বলে মোদি সরকারের এই সবুজ সঙ্কেত। আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের মতো রাজ্যের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের মতো নেতারা দাবি তুলেছেন যে গঙ্গার জলের ভাগ তাদেরও প্রাপ্য।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: তারেক রহমান, নরেন্দ্র মোদী, বাংলাদেশ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন