বিএনপি প্রার্থীদের ভোট না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটদানের আহবান ইউপিডিএফ’র


বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকে মনভোলানো চটকদার আখ্যায়িত করে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। বিএনপির ইশতেহার প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটি তিন পার্বত্য জেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ভোট না দিয়ে খাগড়াছড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা এবং রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে ভোট দিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সংবাদ মাধ্যমে ইউপিডিএফ নেতা নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, ‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মৌলিক দাবি পূরণের কোন প্রতিশ্রুতি নেই। বিএনপির বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ হলো আসলে প্রচ্ছন্নভাবে পাকিস্তানি ভাবধারার প্রবর্তন, ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের থেকে পূর্ববাংলার বাঙালি মুসলমানদের পার্থক্য দেখানোর প্রয়াস মাত্র। এতে বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য জাতিসত্তাসমূহের স্বীকৃতি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মৌলিক বিষয় স্থান পায়নি। এ সত্যটি বিএনপি সুকৌশলে এড়িয়ে যায়।’
ইউপিডিএফের সহসভাপতি নূতন কুমার চাকমা ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন, যেমন বাঙালি, চাকমা, মারমা ত্রিপুরা, গারো, মনিপুরী, সাঁওতাল ইত্যাদি। তবে নাগরিক হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশী। বাংলাদেশী পরিচয় আমাদের নাগরিকত্বের পরিচয়, জাতীয়তার পরিচয় নয়। এই সত্য ও বাস্তবতা স্বীকার না করে সংখ্যালঘু জাতিগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
বিএনপির ইশতেহারে উল্লেখিত পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতিকে অন্তসারশূন্য আখ্যায়িত করে ইউপিডিএফ নেতারা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের প্রতিশ্রুতি না থাকার মধ্যে এই ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, বিএনপি তার আগের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। আশির দশকে তারা পাহাড়ে সেটলার পুনর্বাসন করেছিল ও দমন নীতি জারি রেখেছিল, তা থেকে সরে এসেছে এমন সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। টেকসই শান্তি স্থাপনের’ জন্য যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে তা অস্পষ্ট ও মূল সমস্যাকে পাশ কাটানোর চেষ্টা মাত্র।’
ইশতেহারে জনগণের মৌলিক দাবি স্বায়ত্তশাসন, ভূমি অধিকার, বেসামরিকীকরণ ও গণতন্ত্রায়ন, মানবাধিকার, সেটলারদের সমতলে পুনর্বাসন, জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, গণহত্যার বিচার এবং এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে গুইমারা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালায় সংঘটিত ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার করার প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত নেই বলে তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।
এছাড়া ইশতেহারে ‘নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর’ ও বেসরকারী উদ্যোগে ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিকে চটকদার বুলি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার কারণ অর্থনৈতিক অনুন্নয়ন নয়। বরং এখানে উন্নয়নকে অধিকারহীন জাতিগুলোকে নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই অতীতে যেভাবে তথাকথিত পর্যটনের জন্য নিরীহ গ্রামবাসীকে উৎখাত হতে হয়েছে, তাদের ভূমি বেদখল করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন গঠন করা হলে একই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি আরও বড় আকারে ঘটবে। তাই লোক ঠকানোর এই ইশতেহার পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের কাছে মোটেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’
ইউপিডিএফ নেতা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রত্যাখ্যান করে তিন পার্বত্য জেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ভোট না দিয়ে খাগড়াছড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমা ও রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে ভোট দিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইউপিডিএফ নেতারা মনে করেন, জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের দাবি-দাওয়া ও আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে ও তার জন্য সংগ্রাম করতে এছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

















