ভারতে পালিয়ে সেলফি তুললেন হাদিকে গুলি করা দুই আততায়ী


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলির ঘটনায় জড়িত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের তোলা সেলফি ও ফোন নম্বর প্রকাশ করেছেন কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের।
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে ভারতে পালানোর পর মাসুদের তোলা একটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন শায়ের লেখেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনার সাথে জড়িত শ্যুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরবাইকচালক আলমগীর হোসেন ১২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব, ফয়সাল করিম মাসুদকে এই ভারতীয় নম্বরটি জোগাড় করে দেন বলে বিশেষ গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।’
পোস্টে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে তিনি লেখেন, ‘+৯১৬০০১৩৯৪০ এই নম্বরটি ব্যবহার করে গতকাল রাতে কয়েকটি নম্বরে নিজেদের এই সেলফি পাঠান ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। যে সকল নম্বরে এই ছবিটি পাঠানো হয়, তার একটি ইন্টারসেপ্ট করে এই ছবিটি পাওয়া যায়, যা গতকাল ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে তোলা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’
এই দিকে গতকাল প্রকাশিত যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়া দুজন ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে যমুনা টেলিভিশনের ময়মনসিংহের ব্যুরো চিফ হোসাইন শাহিদ রোববার যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দুই শুটার- ফয়সাল ও আলমগীর শুক্রবারই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পরপরই একটি প্রাইভেট কারে প্রথমে মিরপুর থেকে আশুলিয়া পরে গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহে ঢুকে। ময়মনসিংহে এসে সেই প্রাইভেট কার পালটে ফেলে তারা।
এরপর তারা অন্য আরেকটি প্রাইভেট কারে উপজেলার ধারাবাজার পেট্রোল পাম্পে পৌঁছায়। সেখান থেকে স্থানীয় একজন ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলযোগে ভুটিয়াপাড়া সীমান্তে নিয়ে যায়। স্থানীয় ওই ব্যক্তিকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে সেই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করা অন্য যে দুইজন ছিল তাদের আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের বিষয়ে তথ্য জানাতে রোববার( ১৪ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্তদের কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছে কি না—এমন কোনো তথ্য এখনো ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে পাওয়া যায়নি। ফয়সাল করিম মাসুদের সর্বশেষ বিদেশ যাত্রার তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত জুলাই মাসে থাইল্যান্ড থেকে দেশে প্রবেশ করেন। এরপর তার দেশত্যাগের কোনো রেকর্ড নেই।’
তবে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে সীমান্ত পার করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করানো চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এদের পাশাপাশি হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিক আব্দুল হান্নানকে র্যাব-২-এর একটি দল গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের সবাইকে আমরা শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
পুলিশ জানায়, হালুয়াঘাটের সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার দুজন হলো সিবিয়ন দিও ও সঞ্চয় চিসিম। গত শনিবার ময়মনসিংহের সীমান্ত উপজেলা হালুয়াঘাট, ফুলপুর, ধোবাউড়া এবং হালুয়াঘাট লাগোয়া পশ্চিমে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় অভিযান চালায় ডিএমপির রমনা বিভাগের একটি দল। নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে সীমান্ত পারাপারে জড়িত অভিযোগে সিবিয়ন দিও ও সঞ্চয় চিসিমকে আটক করা হয়।
প্রসঙ্গত গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে এসে চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করা হয়। তাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

















